বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ তলা থেকে ফেলে শিশুসন্তান হত্যার কথাস্বীকার করল বাবা

news-image

 হাসপাতালের মোটা অংকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় বিভিন্ন জনের প্ররোচনায় ২৫ দিন বয়সের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে ৭তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে পাষ- পিতা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে এ কথা স্বীকার করেছে ট্রাক চালক ফজলুল হক। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনায় মৃত শিশুটির নানা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ফজলুল হক মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার ইসলামপুর গ্রামের মরহুম চাঁন মিয়ার পুত্র। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গত রোববার দিবাগত রাতে শিশুটি হাসপাতালের ৭১৬ নং বেডে মায়ের কাছেই ছিল। তখন সাথে ফুপু জবেদা খাতুন ও শিশুটির বাবা ফজলুল হকও ছিল। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরে সোমবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটির প্রতিবন্ধী মা দেখে তার পুত্র আব্দুল্লাহ নেই। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কান্না জুড়ে দেয় স্বজনরা। পরে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় ও নিরাপত্তা কর্মীরা শিশুটিকে চার তলার কার্নিশে (দুটি ছাদের বর্ধিত অংশ) কাপড়ে মোড়ানো মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন।তবে ৭তলা থেকে চার তলার কার্নিশে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহ হলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুন্নাহারের স্বামী ফজলুল হক ও ফুপু জবেদা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমে পুলিশ জবেদাকে সন্দেহ করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক কাহিনী। নিজ সন্তান হত্যার কাহিনী স্বীকার করেন ফজলুল হক। ফজলুল হক নিজ শিশু সন্তানকে ৭ তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, রোববারই হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেওয়া হয় তাদের। ধরিয়ে দেয়া হয় মোটা অংকের বিল। যা দেখে হতভম্ব হয়ে যায় সে। তবে এতো টাকা যোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন জনের সাথে পরামর্শ করে কিভাবে কি করা যায়। স্ত্রী বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুশ্চিন্তা ঢুকেছে শিশুটিও যদি প্রতিবন্ধী হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, টাকা জোগাড় করতে না পারায় বিভিন্ন লোকজনের কু-পরামর্শ শুনে সন্তানকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে সে। ওই রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে শিশুটিকে কাপড়ে মুড়িয়ে ৭তলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় সে। পরে কাপড়ে মোড়া শিশুটি প্রথমে ৫তলার কার্নিশে লেগে চারতলার কার্নিশে (দুটি ছাদের বর্ধিত অংশ) আটকে থাকে। যারা তাকে শিশু হত্যার প্ররোচনা জুগিয়েছে তাদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে মামলার বাদী মৃত শিশুর নানা নুরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে ফজলুল হকের সঙ্গে বিয়ে হয় নুরুন্নাহারের (২৫)। মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ফজলুকে একটি ট্রাক কিনে দেই। থাকতেও দেই সাভারের জামসিং এলাকার নিজ বাড়িতেই। আল আমীন নামে তাদের এক বছর বয়সের আরেকটি সন্তান রয়েছে।  তিনি আরো বলেন, চারদিন বয়সী শিশু আবদুল্লাহকে নিয়ে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালেই এসেছিলেন নুরুন্নাহার। রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আবদুল্লাহ’র চিকিৎসা চলে হাসপাতালের নবজাতক শিশু পরিচর্যা ইউনিটে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু আবদুল্লাহ হত্যাকা-ের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সাভারে। 


 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে