,

ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ ও করণীয়

news-image

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ফুসফুস ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি হিসেবে সবার কাছেই পরিচিত। প্রাথমিকভাবে এর লক্ষণগুলো শনাক্ত হলে চিকিৎসায় সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ফুসফুস ক্যান্সারের বিভিন্ন লক্ষণ
অনবরত কাশি: কয়েক সপ্তাহ ধরে অনবরত কাশি হলে, বিশেষ করে যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে থাকে তাহলে এটি ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ সময় কাশির অবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয় কিনা বা থুথু ও কফের সঙ্গে রক্ত যায় কিনা– সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শ্বাসকষ্ট: ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম একটি লক্ষণ শ্বাসকষ্ট। বিশেষ করে ন্যূনতম বা স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হওয়া ভালো লক্ষণ নয়। যদি শ্বাস কার্যক্রমে হঠাৎ বা ব্যাখ্যাতীত পরিবর্তন আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বুক ব্যথা: ক্রমাগত বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। কাশি কিংবা দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকে ব্যথা হলে ও বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস: অনিচ্ছাকৃত ও অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস ফুসফুসের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ।

ক্লান্তি-অবসাদ: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্রমাগত ক্লান্তি অনুভূত হলে তা অবহেলা করা যাবে না। এটি বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে, এমনকি ক্যান্সারেরও।
ক্ষুধামন্দা: খাবার খেতে অনীহা এলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

করণীয়: শরীরে ক্যান্সারের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সর্বপ্রথম একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। ক্যান্সারের উপস্থিতি ও স্তর শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইমেজিং স্ক্যান, বায়োপসি বা রক্ত পরীক্ষার মতো নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করাতে হবে। রোগ নির্ণয়ের পর একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। অবস্থা এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি কিংবা উভয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হতে পারে। ক্যান্সার চিকিৎসায় পরিবার-পরিজনদেরও বিরাট ভূমিকা থাকে। এ সময়টি মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে; তাই কাছের মানুষদের উচিত সবসময় রোগীকে হাসি-খুশি রাখা, সহানুভূতিশীল ব্যবহার করা এবং আত্মবিশ্বাস জোগানো। এ সময় রোগীর জীবনযাত্রার ধরন বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ধূমপান পরিহার করা, ধূমপায়ীদের থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম করা, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারব।

লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট-ক্লিনিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজি, কোঅর্ডিনেটর-রেডিয়েশন অনকোলজি, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা

এ জাতীয় আরও খবর

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না

আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

ভেনিস ও টরন্টোর পর এবার লন্ডন উৎসবে বাংলাদেশের এই সিনেমা

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত