বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বময় ইসলাম : হাদীসের আলোকে বিভিন্ন নফল নামাজ

news-image

মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হাদী(পূর্ব প্রকাশিতের পর)যাওয়ালের নামাজহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সায়িব (রাজি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন কেননা যাওয়ালের সময় আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। বিশেষভাবে সব ইবাদাত-বন্দেগী কবুল হয়। (১)  তিরমিযী শরীফ, ১ম খ-, ১০৮ পৃষ্ঠা। (২) ইবনে মাজাহ্্ শরীফ, হাদীস নং-১১৫৭। এই নামাজের সময়এই নামাজ দুপুরে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার সাথে সাথে আদায় করতে হয়। অর্থাৎ নামাজের স্থায়ী সময়সূচি ক্যালেন্ডারে যোহরের যে ওয়াক্ত দেয়া হয় সেটাই সূর্য ঢলার সময়, এই সময় দুই/দুই রাকাত করে চার রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম ও অশেষ নেকী পাওয়া যায়।শোকরানা নামাজযখন কোনো বড় নিয়ামত হাসিল হয় কিংবা কোনো বিপদ কেটে যায় তখন শুকরিয়া স্বরূপ কমপক্ষে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম, কেননা সূরা ইব্রাহীমের ৭নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা আমার শোকরিয়া আদায় কর তাহলে আমি আমার নেয়ামতকে বাড়িয়ে দিব।” হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে আবু আওফা (রাজি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) আবু জাহেলের শিরোচ্ছেদের সু-সংবাদ পাওয়ার দিন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েছিলেন ইসলামের শত্রুকে হত্যা করার শুকরিয়া স্বরূপ। ইবনে মাজাহ্্ শরীফ ৯৯ পৃষ্ঠা। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাজি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.)-এর নিকট কোনো খুশির সংবাদ আসলে বা কোনো কাজ সমাধান হয়ে গেলে তিনি (সা.) আল্লাহ্্র সমীপে কৃতজ্ঞতায় সেজদায় লুটিয়ে পড়তেন। (১) ইবনে মাজাহ্্ ৯৯ পৃষ্ঠা। (২) আপকে মাসাইল, ৩য় খ-, ৮০ পৃষ্ঠা। শোকরানা নামাজের সময়মাকরুহ সময় ছাড়া যে কোনো সময় এ নামাজ পড়া যায়। সালাতুত তাওবার নামাজ মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সমস্ত সৃষ্টির সেরা জাতি, আল্লাহ্্ তা’আলা মানুষের মধ্যে নফসে আম্বারা কু-প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে দিয়েছেন, নফসের প্ররোচনায় শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ শরীয়তবিরোধী ও গোনাহের কাজ করে ফেলে। তখন অনুতপ্ত হয়ে এরূপ কাজ না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে আল্লাহর নিকট গোনাহ মাফ করাইবার জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াকে তাওবার নামাজ বলে। হযরত আলী (রাজি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা যদি কোনো গোনাহ্্ করে বসে অতঃপর উত্তমরূপে ওজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে এবং আল্লাহ্্ নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ নিশ্চয়ই তার গোনাহ্্ মাফ করে দেবেন। (১) আবু দাউদ শরীফ, ১ম খ-, ২১২ পৃষ্ঠা। (২) ইবনে মাজাহ্্ শরীফ ১০০ পৃষ্ঠা। মাকরুহ সময় ছাড়া যে কোনো সময় এই নামাজ পড়া যায়। সালাতুল্্ হাজাতের নামাজবান্দা যখন কোনো বিশেষ প্রয়োজনের সম্মুখীন হয় বা কোনো মাকসুদ পূর্ণ হওয়ার জন্য বা অভাব-অনটনে পড়ে তখন দুই রাকাত সালাতুল্্ হাজাতের নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ্্ তা’আলার নিকট প্রার্থনা করাকে সালাতুল হাজাত বলে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আওফা (রাজি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অথবা কোনো মানুষের নিকট কোনো  (হাজাত) প্রয়োজন রয়েছে, সে যেন ওজু করে দুই রাকাত সালাতুল হাজাতের নামাজ পড়ে এবং নবী করীম (সা.) এর ওপর দরুদ শরীফ পড়ে এবং আল্লাহ্্র প্রশংসা করে বলে, হে আল্লাহ্্! তুমি আমার গোনাহ্্ মাফ কর, আমার দু:খ-দৈন্য দূর কর, আর আমার যেসব প্রয়োজন আছে তা তুমি পূর্ণ কর। (১) মুসনাদে আহম্মদ, ৬ষ্ঠ খ-, ৪৪৩ পৃষ্ঠা। (২) ইকামাতে সালাত ২৩৩ পৃষ্ঠা। মাকরূহ সময় ছাড়া যে কোনো সময় এই নামাজ পড়া যায়। সালাতুত তাসবীহের নামাজহযরত ইবনে আব্বাস (রাজি.) থেকে বর্ণিত, একবার নবী করীম (সা.) আব্বাস (রাজি.) কে বললেন, হে আমার চাচা! আমি কি আপনাকে একটি দান, একটি বখশিশ দিব? একটি জিনিস বলে দিব? আপনাকে দশটি জিনিসের মালিক বানাব? যখন আপনি এই কাজটি করবেন তখন আল্লাহ্্ তা’আলা আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের গোনাহ্্ নতুন ও পুরাতন গোনাহ ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গোনাহ, সগীরা ও কবীরা গোনাহ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গোনাহ সব মাফ করে দিবেন। সেই কাজটি হলো চার রাকাত সালাতুত তাসবীহের নামাজ। চাচাজান! যদি পারেন দৈনিক একবার তা না হয় সপ্তাহে একবার, তা না হয় মাসে একবার, তা না হয় বৎসরে একবার, তা না হয় জীবনে একবার হলেও পড়বেন। এর দ্বারা সারা জীবনের সমস্ত গোনাহ মাফ হয়ে যায়।  চার রাকাত নামাজ যে কোনো সূরা দিয়ে পড়া যায়, এবং ‘সুবহানাল্লাহী ওয়াল হামদু লিল্লাহী ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার : দোয়াটি প্রত্যেক রাকআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাতে মোট ৩০০ বার পড়তে হবে। তাকবীরে তাহ্রীমার পর ছানা পড়ে উক্ত দোয়াটি ১৫ বার পড়বে, তারপর আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়ে যথারীতি সূরা ফাতিহা ও ক্বিরাত পড়বে, রুকুতে যাওয়ার পূর্বে ১০ বার উক্ত দোয়া পড়বে, রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পড়ে উক্ত দোয়া ১০ বার পড়বে। রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ১০ বার পড়বে, ১ম সিজদার তাসবীহের পরে ১০বার পড়বে, সিজদা হতে সোজা হয়ে বসে ১০ বার পড়বে, দ্বিতীয় সিজদার তাসবীহ পড়ে ১০ বার পড়বে (১ম রাকাতে মোট ৭৫ বার হইল) তাকবীর বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াইয়ে ১৫ বার পড়বে। ১ম রাকাতের মতো দ্বিতীয় রাকাতেও ঐরূপে ৭৫ বার পড়বে। এমনিভাবে ৩য়, ৪র্থ রাকাতেও ৭৫ বার করে পড়বে। এই মোট ৩০০ বার হলো। তারপর যথারীতি আত্তাহিয়াতু, দরুদ শরীফ, দু’আয়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করবে। এই নিয়মটা আব্দুল্লাহ্্ ইবনে মোবারক ও বহু ওলামায়ে কেরাম ও সুফিয়ায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ্্ ইবনে মোবারকের উস্তাদ আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে যেতে চায় সে অবশ্যই সালাতুত তাসবিহ এর নামাজ পড়বে। এ নামাজের জন্য কোরআনের কোনো সূরা নির্ধারিত নেই। যে কোনো সূরা দিয়ে পড়া যায়। (১) তিরমিযী শরীফ, ১ম খ-, ১০৯ পৃৃষ্ঠা। (২) আবু দাউদ  শরীফ, ১ম খ-, ১৮৪ পৃষ্ঠা। নামাজের নিষিদ্ধ সময় ছাড়া দিবা-রাত্রির যে কোনো সময় এ নামাজ পড়া যায়।  


Copyright Daily Inqilab

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে