বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সারাদেশে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত

news-image

সারাদেশে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক জেলায় সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বর্ষণ আরো একদিন থাকতে পারে। ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। বান্দরবান শহরের বনরুপা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কক্সবাজার শহরের বেশিরভাগ স্থান ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করেছে। বান্দরবানের সঙ্গেও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বগুড়ার ধনুটে যমুনার ভাঙনে ২০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে চার দিন ধরে বর্ষণে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। টানা বর্ষণের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমেছে।পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যেতে বৃহস্পতিবার মাইকিং করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ২৪ ঘণ্টায় ১১২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলজটের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কগুলোতেযানজট দেখা দিয়েছে। এদিকে টানা পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে। বৃষ্টির জলবদ্ধতার সঙ্গে জোয়ারের পানি একাকার হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে। বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে একই অবস্থা। জোয়ারের পানিতে নদী-চর-জলাশয় ডুবে একাকার হয়ে গেছে। চর ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে ভারি বর্ষণে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। অন্তত ২০ হাজার একর ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘেরপানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিশাল এলাকা। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। টানা চারদিনের বর্ষণে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, বড়বাজার, গোলদীঘিরপাড়, টেকপাড়া, পৌর এলাকার সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা ও গোলদীঘিরপাড় এলাকায় কোমরপানি জমেছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।এটা চলতি মৌসুমে একদিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের কাকলী সিনেমা হলের মোড়, বটতলা বাজার থেকে সিঅ্যান্ডবি রোড চৌমাথা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক, সদর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর, নগরীর অনেক এলাকার প্রধান সড়ক হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে। নৌপথে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙনে বগুড়ার রঘুনাথপুর গ্রামের ২০ ঘরবাড়ি বিলীন ও ভাণ্ডাবাড়ী এলাকায় ৭০ মিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ধসে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় যমুনা পাড়ের পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। আতঙ্কিত মানুষ জানমাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। দু’দিন থেকে ব্যাপকভাবে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে বৃহস্পতিবার ভাণ্ডাবাড়ী এলাকায় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৭০ মিটার ধসে গেছে। 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা