বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত জাগা ইবাদতে মুছে যায় পাপ

news-image

গভীর রাতে সুফি দরবেশরা যে নামাজে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন, তার নাম তাহাজ্জুদ। আল্লাহ বলেন, হে নবী, রাতে তাহাজ্জুদ পড়–ন। এ ইবাদত আপনার জন্য নফল। আশা করা যায়, আল্লাহ এর প্রতিদানে আপনাকে সম্মানের উঁচু চূড়া দান করবেন (সূরা আল ইসরা : ৭৯)।
হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি। ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (হাদিস : ১১৬৭/২)
তাহাজ্জুতের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, আমার প্রভু প্রত্যেক রাতের শেষাংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, যে কেউ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তা কবুল করব, যে কেউ কিছু প্রার্থনা করবে, আমি তা প্রদান করব, যে কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারি ও মুসলিম)
নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তাঁর স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তাঁর স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেন। (আবু দাউদ ও নাসাঈ) দীর্ঘ তাহাজ্জুদ নামাজ ও তেলাওয়াতে রাসুল (সা.) এর পা ফুলে যেত। বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন।
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কাঁথা গায়ে আমার সঙ্গে শুয়ে পড়লেন, সামান্য সময়ের ব্যবধানে বিছানা ছেড়ে মিসওয়াক ও অজু সেরে নামাজে দাঁড়ালেন। নামাজে দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। ডালিমের দানার মতো লাল চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। রুকু সিজদা ও মোনাজাতে চোখের পানিতে বুক ভেজালেন।
নামাজ শেষে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আপনি এতো কাঁদলেন কেন? আল্লাহ তো আপনার পূর্বের সব পাপ মোচন করে দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বললেন, আমি পাপ মোচনের কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে কেঁদেছি। রাসুল (সা.) এর অনুকরণে সাহাবিদের ঘর থেকে রাতে অন্ধকারে ভেসে আসত সুমধুর কোরআনের সুর। কান্নার বিগলিত ধ্বনি। বিশ্বখ্যাত, অলি-দরবেশদের কেউই গভীর রাতে চোখের পানি না ঝরিয়ে আল্লাহর নৈকট্যলাভ করতে পারেনি। ইমাম গাযালি, জালাল উদ্দিন রুমি, শেখ সাদি, হাসান বসরি কিংবা রাবেয়া বসরি কেউই রাতজাগা ইবাদত ছাড়া অলি হয়ে উঠতে পারেননি।
বিপরীতে আমাদের চোখ মরুভূমি। আল্লাহর ভয়ে মন গলে না, পরকালের চিন্তায় অশ্রু ঝরে না। গোনাহের আবরণে চোখের ঝরণা থেমে গেছে। রোজার এ দিনেও অলস ঘুমে রাত কাটাই, মেতে উঠি পাপের মহড়ায়। নিজের ঘরকে পাপমুক্ত রাখতে পারছি না।
সওয়াজ অর্জনের চেয়ে জরুরি পাপমুক্ত থাকা।
আল্লাহ বলেন, সে-ই সফলকামী, যাকে জাহান্নামে থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।(আল ইমরান:১৮৫) পাপমুক্ত থেকে জান্নাতে যাওয়ার পথ প্রকৃতপ্রস্তাবে সহজই। জান্নাতে যেতে হলে খুব বেশি সওয়াবের প্রয়োজন নেই। তবে, সম্পূর্ণ গুনাহমুক্ত থাকতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেন, রাসুল (সা.) মদিনায় এসে বলেছিলেন, হে মানুষ! তোমরা ধর্মের প্রচার কর, অভাবীদের খাবার দাও। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রেখো, গভীর রাতে নামাজ পড়। তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে, (তিরমিজি)।

এ জাতীয় আরও খবর

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনার নিয়মে বড় সুবিধা

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন ৪৭ লাখ করদাতা

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক