,

দাঁত মাজতে কীভাবে ব্রাশ ব্যবহার করবেন?

news-image

ডা. সিকদার নাজমুল হক
আমরা প্রায় সবাই প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করি। কিন্তু আমরা অনেকেই সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করি না। ফলে দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। উপরন্তু দাঁতের ক্ষতি হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

দাঁত ব্রাশ করার জন্য ব্যবহার করতে হবে সঠিক টুথ ব্রাশ। বাজারে যদিও নরম, মাঝারি-নরম ও নরম তন্তবিশিষ্ট ব্রাশ পাওয়া যায়, তবে নরম ব্রাশই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। শক্ত ব্রাশ মাড়িতে ক্ষত তৈরি করতে পারে, দাঁতের অ্যানামেল নামক বাইরের আবরণ ক্ষয় করে ফেলতে পারে। ফলে দাঁত হয়ে পড়তে পারে সংবেশনশীল। টুথব্রাশের মাথাটি (যেখানে তন্তু বসানো থাকে) তা ছোট হলে ভালো হয়। এতে ব্রাশের মাথাটি দাঁতের সব অংশে ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে।

আরেকটি দরকারি বিষয় হলো- একটি ব্রাশ তিন মাসের বেশি ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এর তন্তুগুলো বাঁকা হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বেশি সময় ধরে ব্রাশ করাও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। দুই থেকে তিন মিনিট পর্যন্ত ব্রাশ করাই যথেষ্ট।

দাঁত ব্রাশ করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। ভুল পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশের ফলে দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না, বরং দাঁত ও মাড়ির ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিয়ে থাকে। দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ে দাঁত মাজার অনেকগুলো পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে। যেমন- রোল পদ্ধতি, বেজ পদ্ধতি, স্টিলম্যান পদ্ধতি, চার্টার পদ্ধতি ইত্যাদি। এতসব পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রোল পদ্ধতিটি সবচেয়ে সোজা। রোল পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করার জন্য আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (এডিএ) সমর্থন দিয়েছে। ফলে এ পদ্ধতিকে বলা হয় এডিএ পদ্ধতি।

দাঁত ব্রাশ করার তিনটি নিয়ম

রোল পদ্ধতিতে দাঁত মাজতে হলে ব্রাশটি দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলের একটু ওপরে মাড়িতে ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে রাখুন। এরপর ব্রাশটি মাড়ি থেকে দাঁতের দিকে টানুন। এভাবে উপর-নিচে সব দাঁত ক্রমাগত ব্রাশ করুন।

মুখগহবরের পেছনের দিকের মোলার দাঁতের উপরিতল পরিষ্কার করার জন্য দাঁতের উপরিতলে ব্রাশ রাখুন। তারপর সামনে পেছনে করে ব্রাশ করুন।

সামনের দাঁতের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের জন্য সেখানে উল্লম্বভাবে ব্রাশ রাখুন। তারপর ওপর-নিচ করে ব্রাশ চালিয়ে যান।

মনে রাখা উচিত, দাঁত পরিষ্কারের পাশাপাশি জিহ্বাও ব্রাশ করা উচিত। কারণ জিহ্বার উপরিভাগে সহজেই জীবাণু জন্ম নিতে পারে। তাই জিহ্বার পেছনের দিকে ব্রাশ রেখে তা পেছন থেকে সামনের দিকে টেনে জিহ্বা পরিষ্কার করুন। এতে জিহ্বা জীবাণুমুক্ত থাকবে, মুখগহ্বর থাকবে সতেজ।

দাঁত ব্রাশ করার পর ব্রাশটি পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। নইলে ব্রাশে জীবাণু বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে আবার দাঁত ব্রাশের সময় অপরিষ্কার ব্রাশ থেকে জীবাণু মুখে প্রবেশ করতে পারে। ব্রাশ ধুয়ে তা শুকনো জায়গায় রেখে দিন, যেন তা সহজে শুকিয়ে যেতে পারে। কারণ ভেজা ব্রাশে জীবাণু জন্মাতে পারে সহজেই।

দাঁত মাজার সময় ফ্লোরাইডসমৃদ্ধ টুথ পেস্ট ব্যবহার করুন। কারণ দাঁতের ক্ষয় রোধে ও দাঁত মজবুত রাখতে ফ্লোরাইড খুব উপকারী। দাঁত ব্রাশ করুন দিনে দুইবার- সকালে ও রাতে। দাঁত মাজার পাশাপাশি ‘ডেন্টাল ফ্লোস’ অর্থাৎ দাঁত পরিষ্কারের সুতা ব্যবহারও অনেক উপকারী। দুই দাঁতের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান, যেখানে ব্রাশের তন্তু প্রবেশ করতে পারে না, সে স্থান পরিষ্কারের জন্য ‘ডেন্টাল ফ্লোস’ বেশ কার্যকর।

দাঁত ও মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখার জন্য মাউথওয়াশ দিয়েও কুলি করা যায়। তা করতে হলে আগে দাঁত ব্রাশ করে নিতে হবে। তারপর মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।

লেখক: ডেন্টাল স্পেশালিষ্ট,

তায়েফ ডেন্টাল হাসপাতাল, সৌদি আরব

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না