,

৪ বছর পর খুললো শ্রমবাজার, মালয়েশিয়া গেলেন ৫৩ কর্মী

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চার বছর পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালে কর্মী নেওয়া বন্ধের পর আজ মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ৫৩ কর্মী মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। এদিন দেশটির স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) তাদের স্বাগত জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার।

এর আগে গতকাল সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এ কে ৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন ৫৩ কর্মী। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছান তারা। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে হাইকমিশনার বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাগত জানান। তারা প্রত্যেকেই গেছেন মেসার্স ক্যাথারসিজ ইন্টারন্যাশনাল নামের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে।

এ সময় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নবাগত কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের সম্মান বজায় রেখে, মালয়েশিয়ার আইনকানুন মেনে কাজ করবেন। হাইকমিশন আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

এ সময় শ্রম মিনিস্টার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম এবং মালয়েশিয়াস্থ জিমত জয়া কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এ সময় কর্মীদের হাতে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। দেশের সম্মান বজায় রেখে যাতে কাজ করতে পারেন সেজন্য প্রবাসী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন নতুন কর্মীরা।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এ বছরের এপ্রিলে জিমাত জায়া কোম্পানির এই কর্মীদের প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই দিন জিমাত জায়া কোম্পানিতে ১১০ জন এবং রেইনবো পেপার সাপ্লাই কোম্পানিতে ১৫ জনসহ মোট ১২৫ কর্মীর অনুমোদন দেওয়া হয় ক্যাথারসিজ ইন্টারন্যাশনালকে। এসব কর্মী যাওয়ার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হলো।

এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর লেবার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ‘মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছে। আমরা দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে কর্মী নিয়োগের সত্যায়ন দিচ্ছি। এসব কর্মী দ্রুতই বাংলাদেশ থেকে আসবেন।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। তাদের শ্রম চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয়দের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু গত ৩ বছর মহামারির কারণে নতুন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত থাকায় দেশটিতে চরম শ্রমিক সংকট তৈরি হয়। এই শ্রমিক সংকট নিরসনে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে মালয়েশিয়া।

এ বছরের ২ জুন ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য এখন পর্যন্ত ১১টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সব বাধা কাটিয়ে মালয়েশিয়ায় জনবল পাঠানোর দরজা এবার উন্মুক্ত হলো।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। দেশটির যে চাহিদা, তাতে এবার মালয়েশিয়ায় আরও অন্তত ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী যেতে পারবেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য