বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাবুই হচ্ছে ৮ লাখ মানুষের ঘর

news-image

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরস্থানে  দেশটির সেনা বাহিনী সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আর এর ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে ঘর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাবুতে। বলা হচ্ছে যতদিন না এধরনের অভিযান বন্ধ হবে, ততদিন এধরনের তাবুতে বাস করতে হবে অন্তত ৮ লাখ মানুষকে।

গত এক বছর আগে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী দেশটির  একটি প্রদেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী  হামলার অভিযোগে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে জঙ্গি বিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান। অভিযানে এক বছরে ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে। ।

যদিও পাকিস্তানের তালেবান নেতারা এখনো বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই অভিযানের পাশাপাশি ঘর ছাড়া হয়েছে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ।

গত এক বছর যাবৎ ঘর ছাড়া সেই মানুষগুলো কেমন আছে?

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী হালিমার জন্য শরণার্থী শিবিরের মধ্যে তাবুর স্কুলে পড়াশোনা করা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। হাতে ইংরেজী নতুন বই আর সেখান থেকে জানা কিছু শব্দগুলো পড়ছে এই শিশু। এই এক বছর হালিমার এবং তার সহপাঠিদের জন্য ছিলো এক কঠিন সময়।

উত্তর ওয়াজিরস্থানে সেনা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে তার বাবা সব কিছু ছেড়ে চলে আসেন। পরে তিনি আশ্রয় নেন এই শিবিরে। ৯ ভাই-বোন আর বাবা-মার এই পরিবার।

হালিমার বাবা বিবিসিকে বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা। হালিমার বাবা বলেন, আমি একটি দোকানে কাজ করতাম। সন্তান পরিবার নিয়ে বেশ ভালই ছিলাম। তবে আমার হাতে  তেমন কোনো অর্থ নেই। আমি আমার সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারিনা। আমি চাই সেনা বাহিনীর অভিযান দ্রুত শেষে হোক, তাতে করে আমি পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবো। আর তারা যদি যেতে দেয় তবে আমি আগামীকালই বাড়ি ফিরে যাবো। কিন্তু একই সাথে আমি আমার পরিবারকে নিরাপদে রাখতে চাই।

শরণার্থী শিবিরে ঘুরে বার বার একটি কথাই শুনা যায়। সেটি হলো- বাড়ি ফিরে যাবো।  ছোট-বড় বাবা-মা, শিশুসহ সকলেই চায় বাড়ি ফিরতে। আর সেই বাড়ি ঠিক এই শিবিরের পেছনে, পাহাড়ের ওপাশে।

পাকিস্তানের সেনা বাহিনী যদিও বলছে তারা সেখানকার বেশির ভাগ এলাকায়ই জঙ্গিদের পরাস্ত করেছে। কিন্তু আসলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছেনা যে সেখানকার জীবন কেমন হবে। শরণার্থী শিবিরের মানুষ, যারা বাড়ি ফিরতে চান তাদের কাছে পরিষ্কার না যে, তারা কোথায় যাবেন ।

উত্তর ওয়াজিরস্থান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তালেবানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে সেখানকার জঙ্গিদের উৎখাত করার জন্য। কিন্তু সেনা বাহিনীর অভিযান শুরু হয় যখন পাকিস্তান দেশটির একটি ব্যস্ততম এয়ারপোর্টে হামলা করে।

গত এক বছরে এ অভিযানে ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, পাকিস্তান তালেবানেরা শীর্ষ নেতারা এখনো বেঁচে আছে।

পাকিস্তানের এক বিশ্লেষক খাদিম হুসেইন বলেন, হয়তো তারা কিছুটা ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তাদেরকে পরাজিত করা যায়নি।

হালিমা বলেন, পাহাড়ের ওপারে তার গ্রামের কথা এখনো মনে পরে। কিন্তু যতদিন এই যুদ্ধ চলতে থাকবে ততদিন এই তাবুই তাদের ঘর, এটাই তাকে মেনে নিতে হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা