আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র স্মরণ করল বাংলাদেশ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি মুছে ফেলতে পাকিস্তান যে নারকীয় কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল, সোমবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সেটিকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ। দিবসটি উপলক্ষে এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, পথনাটক, বাইসাইকেল র‌্যালি ও সেমিনার আয়োজন করেছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শহীদ মিনারে বীর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা আন্দোলন দমনে তৎকালীন পাকিস্তানের ভূমিকা ও নিরীহ মানুষের ওপর নারকীয় হত্যার কথা স্মরণ করেন বক্তারা।

যশোর, নারায়ণগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ভাষা আন্দোলনের ছবি প্রদর্শনী, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ‘ফালগুণী হাওয়া’ প্রামণ্য সিনেমা দেখানো হয়। ময়মনসিংহে স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এদিন ঢাকায় প্রেস ক্লাবে ‘মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট’ (এমএডিই) এর আয়োজনে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুণ হাবিব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা ভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। এ ছাড়া সেই সময়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়া ও এবং বর্তমানেও কীভাবে পাকিস্তান ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়টি তুলে ধরেন সেমিনারে। ‘২১ থেকে ৭১’ শিরোনামে আয়োজিত এ সেমিনারে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি দমনের চেষ্টার মাধ্যমে একটি দেশকে ধ্বংসে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র তুলে ধরেন বক্তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘রক্তে লেখা বাংলা ভাষা’ নামে একটি পথনাটকের আয়োজন করে ‘ওপেন ডায়ালগ বাংলাদেশ’(ওডিপি)। সামাদ ভূইয়ার নেতৃ্ত্বে একদল চিত্রশিল্পী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি এবং দেশের বুদ্ধিজীবীদের দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা চিত্রায়িত করেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদ কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে বাইসাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানান। সংগঠনের সভাপতি তৌফিক আহমেদ তাফসীর, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এমদাদুল হক সালেক, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান ও সামাজিক অধিকারকর্মী হাফিজ শ্যাম্ভুতাকসহ ১৬০ জন এই বাইসাকেল র‌্যালিতে অংশ নেন।

র‌্যালিটি নিকুঞ্জের পাশে পুলিশ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তান হাইকমিশন হয়ে হাতিরঝিলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তাফসীর আহমেদ বলেন, পাকিস্তান ভাষা আন্দোলনকে দমাতে চেয়েছিল। তারা কখনই বাংলাদেশের জনগণকে বন্ধু হিসেবে নেয়নি, তারা সব সময় বাংলাদেশিদের নির্যাতন চালিয়ে গেছে।

বক্তারা বলেন, এখনো পাকিস্তানের কিছু এজেন্ট বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া তারা বাঙালিদের ওপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৪ লাখ নারীকে ধর্ষণ ও ৩ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছিল পকিস্তান।

 

এ জাতীয় আরও খবর

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী