বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আক্রান্তের ৮৫ ভাগেরই চিকিৎসা বাড়িতে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : দেশে করোনা ভাইরাসের সুপার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং সংক্রমণের হার। তবে সেই হারে মৃত্যু বাড়েনি। গত বছরের ৮ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ওইদিন শনাক্ত হয় ১১ হাজার ৬১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৯৯ জনের। অথচ রবিবার ১০ হাজার ৯০৬ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১৪ জনের। এমনকি বর্তমানে দেশে লক্ষাধিক আক্রান্ত থাকলেও তাদের সামান্যই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে রবিবার পর্যন্ত মোট কোভিড শয্যার ৮৩ শতাংশ এবং আইসিইউ শয্যার ৭৭ শতাংশই খালি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আক্রান্তদের ৮৫ ভাগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হয় না। এমনকি সাধারণ চিকিৎসাতেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে মহামারীর প্রথম থেকেই অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ অনুপাতে মৃত্যুহার কম। টিকা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে লক্ষণবিহীন সংক্রমণের কারণে থার্ড ওয়েবে বা তৃতীয় ঢেউয়ে সেটি আরও কমে এসেছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দেশের করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি সন্তোষজনক। এখন দরকার টিকা ও মাস্ক নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। প্রয়োজনে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে দেশের স্বার্থে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে বলেন, করোনার ওমিক্রন ধরনের আচরণটা ডেল্টার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। আক্রান্ত ব্যক্তির হালকা সংক্রমণ করে থাকে, ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়ায় না, মারাত্মক কোনো জটিলতার সৃষ্টি করে না। সামান্য সর্দি, কাশি, মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। ওমিক্রনে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির হার কম। তিনি বলেন, আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশ বা তারও বেশিসংখ্যক বাসায় চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সাধারণ রিস্ক ফ্যাক্টর না থাকলে বাসায় থেকে এন্টি হিসটামিন জাতীয় ওষুধ, গরম পানি, ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেলেই হবে, তবে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে।

অধিদপ্তর জানায়, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশে কোভিড শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে রবিবার পর্যন্ত খালি রয়েছে ১১ হাজার ১৫৮টি। অর্থাৎ সারাদেশের ৮৩ শতাংশের বেশি কোভিড শয্যা খালি রয়েছে। সারাদেশে আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) শয্যা রয়েছে ১ হাজার ২৫১টি; এর মধ্যে শয্যা খালি রয়েছে ৯৭৫টি। অর্থাৎ ৭৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ আইসিইউ শয্যা খালি রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) শয্যা রয়েছে ৭০৮টি; এর মধ্যে খালি আছে ৫৮৩টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বেসরকারি ল্যাবগুলোয় গড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের ৮ ল্যাবে পরীক্ষায় দেখা আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে আক্রান্তের হার বেড়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর সরকারি বেশ কয়েকটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। এই ওমিক্রনের প্রভাবে সংক্রমণ কত শতাংশ তা নিশ্চিত হতে পর্যাপ্ত জিনোম সিকোয়েন্সিং করা দরকার। তবে যেহেতু পিসিআর ল্যাবে নতুন স্ট্রেইন দেখে বোঝা যায়, সেই হিসাবে বলা যায় বর্তমান সংক্রমণশীলতার পেছনে ওমিক্রনের প্রভাব বেশি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান জানান, কলেজের কোভিড-১৯ পিসিআর ল্যাবে শনিবার ১৮৩টি নমুনার মধ্যে ১০৩টি পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৫৪ শতাংশ, যা ল্যাব চালু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। এই মুহূর্তে ল্যাব স্টাফদের মধ্যে চিকিৎসক, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, এমএলএসএস মিলিয়ে মোট ৭ জন পজিটিভ।

এ ছাড়া শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, ন্যাশনাল টিউবার ক্লোসিস প্রোগ্রাম-এনটিপিতে বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। অন্য হাসপাতাল এবং ল্যাবেও প্রায় একই পরিস্থিতি। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা নিতে হবে। বাসায় টিকা না নেওয়া, বয়স্ক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টের রোগী থাকলে তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কম করে আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পরিস্থিতি এ রকম থাকবে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করতে অনুরোধ জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৯০৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে একদিনে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছ ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ওইদিন শনাক্ত হয় ১১ হাজার ৬১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৯৯ জনের।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, একটু একটু করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে সুপার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। করোনার ওমিক্রন ধরনের সামাজিক সংক্রমণ চলছে। সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে, ডেল্টা প্রিডমিনেটলি প্রিডমিনেট। ওমিক্রনও একটু একটু করে সেই জায়গাগুলোকে দখল করে নিচ্ছে। ওমিক্রনের লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওমিক্রনের যে উপসর্গগুলো আছে, তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নাক দিয়ে পানি ঝরছে। মাথাব্যথা করছে ৬৮ শতাংশ রোগীর। অবসন্নতা-ক্লান্তি অনুভব করছেন ৬৪ শতাংশ। হাঁচি দিচ্ছেন ৬০ শতাংশ রোগী। গলা ব্যথা হচ্ছে ৬০ শতাংশ রোগীর, কাশি দিচ্ছেন ৪৪ শতাংশ রোগী।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অধ্যাপক নাজমুল বলেন, এই বিষয়গুলো কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এর সঙ্গে অনেকেরই মৌসুমি ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে। এসব ফ্লুর সঙ্গে ওমিক্রনের লক্ষণগুলোর যথেষ্ট মিল রয়েছে। কাজেই যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই আমাদের চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। রোগীর সংখ্যা যদি প্রতিদিনই বাড়তে থাকে এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে আমরা যদি নিজের মতো করে চলতে থাকি, তা হলে কিন্তু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। সেটি কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে- গত তিন-চার মাসের চেয়ে হাসপাতালে রোগী অনেক বেড়েছে এবং এটি অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, এই মহামারীকে পরাস্ত করতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। বইমেলার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন, তাদের মেলা শুরুর আগে টিকা গ্রহণে কার্যক্রম সমাপ্ত করেন। বইমেলায় যারা যাবেন, ষাটোর্ধ্ব যারা আছেন, ফ্রন্টলাইনার যারা আছেন, তারা যেন তাদের বুস্টার ডোজের টিকা নেন। মেলায় অবশ্য নাক-মুখ ঢেকে সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবে মাস্ক খুলে বইমেলায় বিচরণ করা যাবে না।

রংপুর বিভাগে ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৫

রংপুর ব্যুরো জানায়, বিভাগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২৩। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৪৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৫৯। একই সময়ে দিনাজপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে করোনা শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬ হাজার ৬৩৭ জন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা