বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ৩ মাসে ২৫ হাজার মানবপাচার

news-image

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বঙ্গোপসাগর দিয়ে নৌকায় করে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা পাচার করা হয়েছে। শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয় পাচারকৃত এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুন। ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক মানুষ এই পথ ব্যবহার করে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। যার ফলে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মানবপাচারের শিকার হয়েছে।

বেঁচে যাওয়া অভিবাসীদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে অনাহার, পানিশূন্যতা এবং পাচারকারীদের নির্যাতনে আনুমানিক ৩০০ জন মানুষ সমুদ্রে মারা গেছে।

মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশে গত সপ্তাহে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অভিবাসীদের এক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখান থেকে ৩৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পশ্চিম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধিবাসীরা ধর্মীয় এবং জাতিগত নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচার জন্য এবং বাংলাদেশিরা কাজের আশায় মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে মানবপাচারের শিকার হচ্ছে বল উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের র্যানং শহর দিয়ে মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাচারকারীদের শিবির রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, এই শিবিরগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের এসব শিবিরে এনে রাখা হতো। প্রতিনিয়ত তাদের নির্যাতনও করা হতো।

বেঁচে যাওয়া অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর সঙ্গে গত অক্টোবরের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে তৈরি ইউএনএইচসিআর এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্দীদের কেউ কেউ এসব শিবিরে মারা গেছে। তাদের পেটানো একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব শিবিরে ধর্ষণ করার ঘটনাও ঘটেছে। কেউ পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তাদের গুলি করা হতো।

বেঁচে যাওয়াদের একজন জানান, তিনি ৬২ দিন ধরে এধরনের ভয়াবহ পরিবেশের মধ্যে ছিলেন। তিনি এই পরিবেশকে কবরস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি ভাবতেও পারেননি এখান থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পারবেন।

ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস জানান, মানবপাচার করা একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ফলে শিশুদেরও অপহরণ এবং জোর করে মানবপাচারের উদ্দেশে নৌকায় তোলা হয়। এছাড়া যারা বিদেশ যাওয়ার জন্য এসব পাচারকারীদের টাকা দেন তারা ভাবতেও পারেন না, তাদের থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এসব অঞ্চলের দেশগুলিকে মানবপাচার রোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা