বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়নগরের অধিকাংশ পাকা রাস্তার বেহাল দশা, গাড়ি-মানুষ চোট লাগছে সবার গায়ে

B.Baria Bijoynagar Pic-2আমিরজাদা চৌধুরী : দিন ভালো যাচ্ছেনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের সিএনজি চালিত অটো রিকসাওয়ালাদের। গাড়ি নিয়ে ঘরে বসে থাকার জু হয়েছে তাদের। বিপদ রাস্তায় নামলেই। যেমন সিএনজি ওয়ালার, তেমনি যাত্রীর। রাস্তা এখন আতঙ্কের নাম হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই উপজেলার মানুষের। দারিয়াপুর গ্রামের সিএনজি অটোরিকসা চালক আবদুল মতিন। উপজেলা সদরের মীর্জাপুর মোড়ে কথা হয় তার সঙ্গে। এক সপ্তাহের মধ্যে তার সিএনজি অটোরিকসাটির যন্ত্রাংশ দু-বার ভেঙ্গেছে। বলেন, সকালে ভালো গাড়ি নিয়ে বের হই আর বাড়ি ফিরি ভাঙ্গা গাড়ি নিয়ে। আজ(৭ ই মার্চ) সকালে বের হওয়ার পরই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে যায়। এটি মেরামত করতে আমার খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এই তথ্য জানাতে জানাতে পকেট থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ কেনার বিলও বের করে দেখান। এরআগে ২ রা মার্চ তার গাড়িতে ১১’ শ টাকার মেরামত কাজ করতে হয়েছে। এতো গেল গাড়ির দিক। যাত্রীদের অবস্থা। গাড়ির যন্ত্রাংশের মতোই প্রতিনিয়ত মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চোট লাগছে। ভাঙ্গছে হার-হাড্ডি। মাস দুয়েক আগে মতিনের গাড়ির একদিন এ্যাক্সেল ভেঙ্গে যায়। আহত হয় ৫ যাত্রী। এক্সেল ভেঙ্গে গাড়ি হুমড়ি খেয়ে পরার পরই মূর্চ্ছা যান ঐ সিএনজি অটোরিকসা আরোহীদের সবাই। আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।  অহরহই ঘটছে এসব ঘটনা। শুধু মতিন নয়, এই দশা বিজয়নগরের সব সিএনজি অটোরিকসাওয়ালাদের। আরেকজন মির্জাপুর গ্রামের হারুন মিয়া। তিনি জানান-চান্দুরা থেকে মির্জাপুর,হরষপুর-মির্জাপুর,আখাউড়া-মির্জাপুর গুরুত্বপূর্ন এসব সড়কের কোনটিই আস্ত নেই। তাই সিএনজি ওয়ালারা দিশেহারা। কোন পথ দিয়ে গাড়ি চালাবেন তা খুজেই পাননা। রাস্তার এই অবস্থা যেমন হারুন মতিনদের বেকার করেছে তেমনি যাত্রীদেরও। গাড়িতে উঠতে চাননা কেউ। হেটেই চলেন বেশী। বিশেষ করে হরষপুর রাস্তায় যাত্রী মিলেনা  সিএনজি ওয়ালাদের। চান্দুরা থেকে সিংগারবিল এটিই প্রধান রাস্তা বিজয়নগরের। এই রাস্তার প্রথম অংশ চান্দুরা থেকে আমতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গন আর ভ্ঙ্গান। যেন খাল কেটেছে কেউ রাস্তায়। বড়-ছোট নানা সাইজের গর্ত। এই অবস্থা সড়কের শেষ সীমা সিংগারবিল পর্যন্ত। সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে ফিরেন এই সড়কে চলতে গিয়ে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের উন্নয়ন কাজ হয় ২০১০ সালে। ১৯৯৬ সালে নির্মিত সড়কটির প্রশস্ততা বাড়ানো হয় তখন।  ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয় একাজে। কিন্তু এই উন্নয়ন কাজ ৪ বছরেই শেষ। উপজেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ন সড়ক মির্জাপুর-হরষপুর সড়ক। যার দৈর্ঘ্য পোনে ৭ কিলোমিটার। এই সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য। সড়কটির কাজ হয়েছিলো ২০১১ সালে। চম্পকনগর থেকে আউলিয়াবাজার পর্যন্ত  ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত হয় ২০১৩-১৪ সালে। এর অবস্থাও ভালো নয়। এমন দুর্দশা সাড়ে ১৭’শ মিটার দীর্ঘ বিষ্ণপুর-রানওয়ে বাজার সড়ক, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নোয়াগাও-পত্তন সড়কের। চম্পকনগর-কালাছড়া সড়কের অবস্থা অনুরূপ। এই সড়কটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৫ কিলোমিটার। ডাকবাংলো বাসষ্ট্যান্ড থেকে চান্দুরা বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও বেহাল। তাছাড়া এখানকার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাটির প্রধান সড়কগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। আলাদাউদপুর-জালালপুর সড়ক,জালালপুর থেকে শ্যামলীঘাট ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত কাচা রাস্তাটি এসব সড়কের দুটি। এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন কয়েকটি রাস্তা মেরামতের টেন্ডার হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই রিপেয়ারিং কাজ হবে। বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশিরুল হক বলেন, রাস্তাগুলো এলজিইডি’র। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারনে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এগুলো দ্রুত মেরামত করা দরকার।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে