,

বাস চালানোই ছেড়ে দেবেন দিয়ার বাবা

news-image

জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় নিহত মীমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির নিজেও একজন বাসচালক। একদিন পরপর বাস নিয়ে ছুটে যেতেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো তাতে দুই মেয়ে ও এক ছেলের পড়ালেখা এবং সংসারের খরচ চালাতেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেয়ের মৃত্যু হওয়ার পর ঘৃণাভরে এ পেশাকেই বিদায় জানালেন এই বাবা।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি ২৭ বছর ধরে গাড়ি চালাই। রাস্তায় একটি ব্যাঙ দেখলে ব্রেক করি। কাল (রবিবার) ২টার সময়ও চাঁপাই যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য আগে আগে বাসা থেকে বের হই। কিন্তু এর মধ্যে একটা ফোন এলো, আপনার মেয়ে আর নাই। এরপর হাসপাতালে গিয়া দেহি আমার মেয়ে আর নাই। আমার লোকজনের (পেশা) হাতে আমার মেয়ে মারা গেল। আর এই পেশাতেই থাকমু না।’

কাঁদতে কাঁদতে জাহাঙ্গীর ফকির আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমার মা (মেয়ে) ভালো ছাত্রী ছিল। ম্যাট্রিকে এ প্লাস পাইছে। ভালো কলেজে ভর্তি অইছে। ও বলত বাবা আমি কলেজেও এ প্লাস পাব। বড় মাইয়াডা টিঅ্যান্ডটি কলেজে পড়ে। ছেলেডা আইপিএইচ স্কুলে। এতেই আমার খুশি। একবার ট্রিপ দিলে ১ হাজার ২৫০ টাকা পাই। এতেই কষ্ট করে বাসা ভাড়া দিয়ে সংসার চলে। তবুও চাইছিলাম মেয়ে দুইডা আর ছেলেডা পড়ালেখা কইরা মানুষ অইব। আমি দেখমু, ড্রাইভারের পোলা-মাইয়া ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ অইছে। কিন্তু আমার একটা ম্যাজিস্ট্রেটরে ওরা মাইরা ফালাইছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত বছর বাস চালাই, কেউ একবার খবর নিল না। আমার মাইয়া গেল। বাস মালিকদের কেউ আইসা সান্ত¡না দেয় নাই। তাইলে এই পেশায় আমি কেন থাকমু!’
মন্ত্রী ও পরিবহন নেতা শাজাহান খানের হাসির কথা শুনে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এতদিন ওনারে আমাগো অভিভাবক মনে করতাম। শ্রদ্ধা করতাম। মন্ত্রী খালি আমাগো কথা কয়। দাবির কথা কয়। আমি তো একজন পরিবহন শ্রমিক। কই, মন্ত্রী তো শ্রমিকের মেয়েরে দেখতে আইল না। শুনছি তিনি নাকি হাসতেছেন। এই শুনে দুঃখে আমার বুক ভাইঙ্গা যায়।’
জাহাঙ্গীরের দাবি, মেয়েকে যারা খুন করছে তাদের বিচার। তেজগাঁওয়ে রহিম মেটাল মসজিদের পাশে মেয়েকে কবর দিয়েছেন তিনি। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমার টাকার অভাব ছিল। ঘরের অভাব ছিল। কিন্তু সুখের অভাব ছিল না। মেয়ে দুইডা আর ছেলে নিজেদের ইচ্ছায় পড়ার টেবিলে বসত। ওরা সবাই মেধাবী। ভালোমন্দ না খেয়ে ওদের পড়ার খরচ দিতাম। স্কুল-কলেজে কেউ যাতে বুঝতে না পারে বাবা একজন সাধারণ ড্রাইভার। আজ আমার সব শেষ করে দিছে। আল্লাহর কাছে ওদের বিচার চাই।’
এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে আব্দুল করিম রাজীবের মরদেহ গতকাল দুপুরে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ তার মা।
রাজীবের ফুফাতো ভাই সুমন জানান, রাজীবের বাবার মৃত্যু হয়েছে ১৫ বছর আগে। সেই থেকে রাজীবের পরিবারটি চালানোর দায়িত্ব নেয় মামা-খালারা। এরই মধ্যে বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। রাজীবের ছোট ভাইও স্কুলে পড়ছে। খালাদের বাসায় থেকেই পড়ত তারা দুই ভাই। কষ্টের সাগরে ভেসেও দুই ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন রাজীবের মা।
সুমন জানান, রাজীবের মৃত্যুর পর তার মায়ের কাছে এই খবর গোপন রাখা হয়। বলা হয় রাজীব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। গতকাল সকালে রাজীবের মরদেহ দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিবারের পাশাপাশি গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে