,

বাবা-ছেলেকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: ৬ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি মূলহোতা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : শরীয়তপুর সদর উপজেলার সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ও তার বাবাকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেধে নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতন করার ঘটনার ৬দিন পার হলেও এর মূলহোতা হালিম বেপারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে যায়নি।

মিডিয়াতে সংবাদ প্রচারের পর গেলো সোমবার রাতে পালং মডেল থানায় মামলা নিয়ে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে নেয়া হয়। আদালতের বিচারক আগামী ১৭ মে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করে আসামীদেরকে জেলহাজতে পাঠান।
এদিকে ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভুক্তভোগী পরিবারে আতংকে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশ বলছে, অচিরেই মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযান অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গেলো ১ মে দিবাগত রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামের হালিম বেপারীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাহের চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামের খোকন মোল্যার ছেলে শামীমকে (১১) বুধবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে একই গ্রামের আবু আলম মোল্যার বাড়ির কাছ থেকে ধরে নিয়ে হালিম বেপারীর বাড়ির কাঁঠাল গাছের সঙ্গে কোমরে লোহার শিকল বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করা হয়।

এসময় নির্যাতনকারীরা শিশু শামীমকে মাটিতে শুইয়ে বুকের উপর পাথর চাপা দেয়। তারা শুকনো মরিচের গুড়ো খাওয়ায়। এরপর শিশু শামীমের গলার ভেতর গরম পানি ঢেলে নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। মারপিট সহ্য করতে না পেরে শিশুটি আত্মচিৎকার করলেও তারা কোনো রকম সহানুভূতি দেখায়নি। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির সামনে দিয়ে শিশুটির বাবা খোকন মোল্যা ভ্যান চালিয়ে আসার সময় তাকেও ধরে নিয়ে একই শিকলে বেঁধে মারপিট করা হয়।

ওইদিন সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এ নির্যাতন। খবর পেয়ে সন্তোষপুর পুলিশ ওইদিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে শিশু শামীম ও তার বাবা খোকন মোল্যাকে উদ্ধার করে। এসময় নির্যাতিতার পক্ষে সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দাখিল করে।

ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ অভিযোগ গ্রহণ না করে পালং মডেল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়। আহতদের অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১০ মে সকালে শামীম ও তার বাবা খোকন মোল্যাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।

অভিযোগ ওঠে ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ এর সহযোগিতায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি শালিস-মীমাংসার নামে ধামাচাপার চেষ্টা করে। পরে এ নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনায় কোনো বিচার না পেয়ে এলাকার জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য লোকজন সোমবার বিকেলে সাংবাদিকের জানায়। এ সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশ ও প্রচার করার ৫ দিন পরে খোকন মোল্যার স্ত্রী ফাহিমা বেগমকে ডেকে এনে বাদী করে পালং মডেল থানায় মামলা নেয় পুলিশ। পরে পুলিশ করম আলী বেপারী, সাহেব আলী বেপারী ও সুমন বেপারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার আদালতে হাজির করা হয় এবং ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুক্তা নাগ আগামী ১৭ মে রিমান্ড শুনানির জন্য দিনধার্য্য করে আসামিদেরকে জেলহাজতে পাঠান।

সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, মঙ্গলবার আসামিদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক আগামী ১৭ মে রিমান্ড শুনানির জন্য দিনধার্য্য করেছে। আশা করছি ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করতে পারবো।

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে