বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহির্নোঙরে দু লাখ বিশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

yaba==চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে আবারো জব্দ করা হলো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট। গতকাল ভোরে নৌ-বাহিনীর অ্যান্টি স্মাগলিং সেলের একটি টহল দল পাচারকালে একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার করে দুই লাখ বিশ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। এর আগে গত ১ জুলাই কোস্টগার্ড একই এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিন বোট থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছিল।
নগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সড়ক পথের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকি থাকায় মাদক পাচারকারীরা নৌ-পথকেই ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট মনে করে। তবে নৌ-বাহিনী এবং উপকূলীয় রক্ষী বাহিনী কোস্টগার্ড সদস্যদের দাবি, সাগরপথে তারা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকেন বলেই প্রায় সময় ইয়াবার বড় বড় চালান ধরা পড়ে। গত মাসের ২৪ আগস্টও কোস্ট গার্ড কর্ণফুলীর কাফকো চ্যানেল থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছিল কোস্ট গার্ড। গতকাল আটক ইয়াবার চালানের বিষয়ে নৌবাহিনীর কমান্ডার জসিম উদ্দীন বলেন,একটি ট্রলারের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় নৌবাহিনীর টহল দলের সদস্যরা এটিকে ধাওয়া দেয়। এ সময় মাঝিরা ট্রলারটি তীরবর্তী অঞ্চলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গতকাল বাকলিয়া থানা পুলিশের আরেকটি অভিযানে কর্ণফুলী শাহ্‌ আমানত সেতু এলাকা থেকে সাড়ে ছয়শ’ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন নুরজাহান বেগম (৩০), তাহমিনা আক্তার (২৬) ও নাজিম উদ্দিন (২৫)। এর মধ্যে নুরজাহান ও তাহমিনার বাড়ি টেকনাফ এবং নাজিম উদ্দিনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।


বাকলিয়া থানার ওসি মো. মহসিন বলেন, আটককৃতরা টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বাসে করে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করছিল। শাহ্‌ আমানত সেতু এলাকায় তাদেরকে তল্লাশি করে ৬৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগর পুলিশের কাছে একসময় মাদক পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত ছিল দুটি। এগুলো হচ্ছে, মিয়ানমার থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম দিয়ে শাহ আমানত সেতু কিংবা কালুরঘাট সেতু অথবা মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম দিয়ে শাহ আমানত সেতু কিংবা কালুরঘাট সেতু। আগে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম হয়ে শাহ আমানত সেতু অথবা কালুরঘাট সেতু দিয়ে ইয়াবা নিয়ে নগরীতে আসত। এখন দেখা যাচ্ছে তারা নৌপথে ইয়াবা আনছে। এক্ষেত্রে তারা ফিশারিঘাট কিংবা অন্যান্য স্থানে মাছ নামানোর কথা বলে কৌশলে ইয়াবা নামাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে তেমন ইয়াবা আনছে না। কিছু চালান ঢুকলেও সেগুলো চন্দনাইশ, পটিয়া কিংবা বোয়ালখালী পর্যন্ত সড়কপথে এনে নদীপথে সাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর মিয়ানমার থেকে সেন্টমার্টিন হয়ে যেসব বড় বড় ইয়াবার চালানগুলো ঢুকে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে এবং সাগরপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে। নদী এবং সাগরপথে আসা ইয়াবার চালান খালাস করা হয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৌঘাটে। নদীপথে মিরসরাই, ফেনী কিংবা অন্যান্য এলাকায়ও নিয়ে গিয়ে ইয়াবা খালাস করা হয়।
নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ’আগে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম হয়ে শাহআমানত সেতু অথবা কালুরঘাট সেতু দিয়ে ইয়াবা নিয়ে নগরীতে আসত; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফিশারিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার বাণিজ্যিক ও ছোট নৌকায় করে ইয়াবা নগরীতে প্রবেশ করছে। সড়কপথে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে নৌপথকেই নিরাপদ মনে করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

এ জাতীয় আরও খবর