,

সরাইলে অপহরনের ২ দিন পর মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার

Las Udderমাহবুব খান বাবুল : তোরা কাজটি ঠিক করিসনি। অনেক সাহস তোদের। দুই দিন ধরে আমাদেরকে শুধু দৌড়াচ্ছিস। চালাকি করেছিস। কথা দিয়ে কথা রাখিসনি। এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। দিয়েছিস মাত্র ২০ হাজার টাকা। কথার বরখেলাপ করলে এমনই হয়। অপহরনের দুইদিন পর সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্র জুনাঈদের (১০) লাশের সন্ধান পাওয়ার পর  তার চাচা নাজমূলকে (৪২) কথা গুলো মুঠোফোনে বলছিল অপহরনকারীরা।

এ সময় নির্বাক হয়ে শুধু ঢুকরে ঢুকরে কাঁদছিলেন নাজমূল। জুনাঈদ উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামের রফিকুল হকের ছেলে। জুনাঈদের হত্যা কারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবীতে উপজেলা সদরে মিছিল করেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন। নিহত জুনাঈদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত দেড় মাস আগে সরাইল সদরের দারূল উলুম আলীনগর মাদ্রাসায় ইয়াজদহম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয় জুনাঈদকে। তার শ্রেণী রোল নং-১০। ভর্তির পর থেকেই মাদ্রাসায় থেকে পড়া লেখা করতো সে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মন চাইলে বাড়িতে যেত আবার চলে আসতো। অন্যান্য দিনের মত গত শনিবার বিকেলে জুনাঈদ তার সহপাঠিদের সাথে খেলা করেছে। সকলের সাথে মসজিদে আছর নামাজ ও পড়েছে। মাগরিবের আগে আর জুনাঈদকে দেখা যায় না। সন্ধ্যার পর সকল শিক্ষার্থী থাকলেও জুনাঈদ ছিল নিখোঁজ। ওই দিন রাত ৭টায় সরাইল বিকাল বাজারের মসলা ব্যবসায়ি জুনাঈদের চাচা নাজমূল হকের মুঠোফোনে ফোন করে অপহরনকারীরা বলে,“ তোর ভাতিজা এখন আমাদের কাছে আছে। তাকে নিতে হলে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। দ্রুত টাকা যোগাড় করে আমাদের সাথে যোগাযোগ কর। নতুবা তার লাশ পাবি। ”

কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে জানায় পাঁচ লাখ নয় দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আয়। নতুবা বিকাশ নাম্বারে পাঠিয়ে দে। এ খবরে জুনাঈদের দরিদ্র স্বজনরা চারিদিকে খোঁজাখুজি শুরু করে। মাদ্রাসা ও স্বজনদের কারো বাড়িতেই তাকে পাওয়া যায়নি। ওইদিন রাতেই জুনাঈদের চাচা নাজমূল হক অপহরনকারীদের ফোন করা নাম্বার গুলো উল্লেখ করে সরাইল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কল লিস্ট বের করতে পারেনি পুলিশ। জুনাঈদের চাচা নাজমূল হক বলেন, গত রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত  স্বজনরা অপহরনকারীদের নির্দেশনা মত বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিপনের টাকা নিয়ে ঘুরেছেন। বিকেলে টিঘর বাজার থেকে অপহরনকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সন্ধ্যার পর সরাইল-নাসিরনগর সড়কের সোনালী ব্রীকসের নিকট আরো ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার কথাছিল। টাকা যোগাড় না হওয়ায় সেখানে যায়নি তারা (জুনাঈদের স্বজনরা)।  কথা রাখতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয় অপহরনকারীরা। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাতের যে কোন সময় জুনাঈদকে হত্যা করে অপহরনকারীরা সোনালী ব্রীকসের দুই’শ গজ পশ্চিমে ধর্মতীর্থ দিঘীর পাড়ের বিশ কেজি ওজনের বালুর বস্তা বেঁধে হাওরে ফেলে দেয়।  আমি পুলিশকে সকল বিষয় মুঠোফোনে অবহিত করতাম। পুলিশ আমাদের সাথে কোথাও যায়নি। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় কালিকচ্ছের ধর্মতীর্থ এলাকায় দিঘীর পাড় সংলগ্ন আকাশী হাওরে শিশু শিক্ষার্থী জুনাঈদের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পুলিশ শিশু জুনাঈদের লাশ কোমরে বস্তা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওদিকে সন্তান হত্যার খবরে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন জুনাঈদের বাবা রফিকুল হক। বারবার জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন তার মা। শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছাইদ বলেন, আমরা এ মর্মান্তিক খুনের সাথে জড়িতদের ফাঁসি চাই। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। 
 

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ