সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষক ‘গুরু’ রাম রহিমের বিশাল আশ্রমে যা আছে

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :দুই জন নারী শিষ্যকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং-কে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে হরিয়ানার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। এরপরই তার প্রায় ৪০ হাজার অনুসারী হরিয়ানার সিরসা শহরে তার প্রধান আশ্রম, ‘ডেরা সাচ্চা সওদা’য় জড়ো হয়েছে।

এই ‘ডেরা সাচ্চা সওদা’য় কি আছে তা নিয়ে সকলেরই রয়েছে কৌতুহল। তবে এই আশ্রমের পরতে পরতে রয়েছে নিরাপত্তা বেস্টনী। তাই এটি সম্পর্কে বিস্তারিত খুব কম মানুষই জানেন। এছাড়া, রাম রহিম যে ঘরে থাকতেন, সেখানে প্রবেশাধিকার আছে মাত্র কয়েকজনের। তাও আঙুলের ছাপ, চোখের মণির মতো বায়োমেট্রিক তথ্য মিললে তবেই ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মেলে।

জানা যায়, প্রায় এক হাজার একর জুড়ে আশ্রম কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছে। এখানে একটি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে স্থানীয় লোকজন বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। রয়েছে একটি রিসোর্ট, একটি হোটেল, বিশাল একটি অডিটোরিয়াম- যেখানে অনুসারীদের জন্য গানবাজনা, সেমিনারসহ নানা অনুষ্ঠান করতেন রাম রহিম।

ভেতরেই রয়েছে খাবারদাবারের আয়োজন। এখনো এখানে ৪০ হাজার ভক্ত-অনুসারী অবস্থান নিয়ে রয়েছে। তাদের সব আয়োজনও ভেতরেই হচ্ছে। একটু দূরেই রয়েছে ধ্যান কক্ষ।

আর তার পাশে রাজকীয় একটি ভবন। দামি আসবাব, সোফা, পর্দায় সাজানো বিলাসবহুল সেই প্রাসাদেই বসবাস করতেন গুরমিত রাম রহিম সিংহের। সেখানে তাকে ঘিরে থাকেন ২০০ জনেরও বেশি বাছাই করা শিষ্যা। তাদের চুল খোলা। পরনে সাধ্বীদের মতো দুধসাদা রঙের পোশাক। তারাই রাম রহিমের যত্নআত্তি, দেখভাল করেন। সেখানে আছে মেয়েদের স্কুল ‘পরীলোক’। তার সব শিক্ষার্থীই সুন্দরী। কারণ, বাবাজি মনে করেন ‘খুবসুরত’ হলেই মেধাবী হয়!

একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি নিছক আশ্রম নয়। ছোটখাটো শহর। ডেরার ভেতরেই চাল, ডাল ও সবজির চাষ হয়। হোটেল, সিনেমা হল, স্কুল, রেস্তোরাঁ, মাল্টি-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, স্টুডিও, বায়োগ্যাস কারখানা, পেট্রোল পাম্প, সংবাদপত্রের ছাপাখানা সবই আছে। একসঙ্গে ১০ হাজার জামাকাপড় ধোয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াশিং মেশিনও রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কন্ট্রোল রুম, গোটা আশ্রমজুড়ে নজরদারি ব্যবস্থা।

এছাড়া, রাম রহিমের কনভয়ে রয়েছে বিলাসবহুল ১০০টি গাড়ি। তার মধ্যে ১৬টি কালো রঙের ফোর্ড এনডেভার। তিনি প্রাসাদ থেকে বের হলে সব গাড়ি তাঁবু দিয়ে ঢেকে দেয়া হতো। রাম রহিম নিজেই ঠিক করতেন, তিনি কোন গাড়িতে উঠবেন। আশ্রমে নিজের ব্যাটারিচালিত গাড়িতেই ঘোরতেন তিনি।

রাম রহিমের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হলে সহিংসতা শুরু পর পুরো কমপ্লেক্সটি ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এ মন্দিরসহ গুরুর সব সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তার অনুসারীরা এই মন্দির ছাড়তে নারাজ।

এ জাতীয় আরও খবর

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন

এক বছর পর চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট