সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যায় সব হারিয়ে দিশেহারা চিলমারীর বানভাসিরা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্যা ও ভাঙ্গনকবলিত এলাকা চিলমারী। পানি বাড়লেও বিপদ কমলেও বিপদ আর বিপদের উপর চলাই যেন তাদের জীবন। আর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তীদের সব সময় কাটে অসহায় জীবন। পানি নেমে গেলেও দুর্গত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। তারা আশ্রয়স্থল থেকে ফিরেই দেখছেন সহায়সম্পদের বিধ্বস্ত অবস্থা। অনেকে ফিরলেও খুঁজে পায়নি ভিটামাটি। এতে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন অনেকেই।

বন্যা গেলেও দুঃখ যায়নি কুড়িগ্রামের চিলমারীর মানুষের। অনেকে আহাজারি করছেন, ‘চোখত আন্দার দেখছি বাহে, কী করমু, কনটে যামু। সবই বানোত গেইছে। থাকমু কই, খামু কি?’ হামার এলা কি হইবে। ধ্বংস স্তুপ ও নদীর কিনারায় বসেও অনেককে চোঁখের পানি ফেলাতেও দেখা গেছে।

চিলমারী, নয়ারহাট, অষ্টমীরচর, রমনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাবেদা (মনতোলা), হালিমাসহ কথা হয় অনেকের সাথে কথা বলতে গেলেই ঝরছে তাদের চোখের পানি। সব হারিয়ে তাদের মতো অনেকে এখন পথের ফকির। ঠাঁই হয়েছে অন্যের জায়গায় অথবা আশ্রয়ন প্রকল্পের মাঠে।

জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার বানভাসীরা আশ্রয়স্থল থেকে ঘরে ফেরা শুরু করলেও তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাঘাট, ফসল, ঘরের চালচুলা সব বন্যায় ভেসে গেছে, ভেঙ্গে গেছে ভিটামাটি, বালিতে চাপা পড়েছে ঘরবাড়ি। নতুন করে সংসার শুরু করতে তাদের হাহাকার করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক পথজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। কোথাও উঠে গেছে ইট, পাথর। দেখা যাচ্ছে অসংখ্য খানাখন্দক। কোথাও ভেঙ্গে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে সড়ক। ভেসে গেছে পাকা সড়কের মাটিও। সেখানে গভীর গর্তে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ভেঙ্গে গেছে বিভিন্ন কাঁচা পাকা সড়ক। এই ধংসযজ্ঞকে সামনে রেখে দুর্গতরা কেবলই আহাজারি করছেন।

কেবল চিলমারী উপজেলাতেই বন্যায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসলাদির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে বেশি রয়েছে পাট, বীজতলা, রোপা আমনের আবাদি জমি এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।

কৃষি অফিস বলছে, বেশিরভাগ এলাকার ফসল ও জমির ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়েছে। চাষিদের নতুন করে আবারও মাঠে নামতে হবে। কৃষকদের সরকারিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে।

দেখা গেছে, বন্যাপরবর্তী নদীর তীর ও চরাঞ্চলের লোকজন গৃহস্থালির রকমারি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা ঘরদরজা মেরামত করছেন, আবার কেউবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলাদি উদ্ধারে নাওয়া খাওয়া ছেড়েছেন। অনেকে সব হারিয়ে কান্নাকাটি করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নেই বন্যার পানি ঢুকে পরায় বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের ঘর দরজা, ফসলাদি ও উর্বর চরাভূমিতে বালির চর পড়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন

এক বছর পর চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

স্কালোনির আক্ষেপ, ‘আরেকটি ট্রফি এনে দিতে পারলাম না’

শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, ভূমি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দাম হ্রাস

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার