,

থামেনি রানা প্লাজায় কান্না

news-image

একদিকে চলছে মিছিল-শ্লোগান। আর অন্যদিকে ভেসে আসে কান্নার শব্দ। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের ছবি বুকে নিয়ে কান্না করছিলেন।

কাসেম আলী ও তার স্ত্রী সালমা বেগম তাদের ছেলে আফজালের ছবি বুকে নিয়ে রানা প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। তাদের  দুই ছেলে ও এক ছেলের বউ মারা গেছেন এই দুর্ঘটনায়। ছেলে উজ্জ্বল ও তার স্ত্রী খাদিজার লাশ পেয়েছেন। কিন্তু আফজালের লাশ এখনও পাননি।

সালমা বেগম তার ছেলের খোঁজে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে জানালা ভেঙে আসতে পারতো। কিন্তু সে বের হতে পারেনি।’ সালমার ধারণা, তার ছেলের লাশ এখনও রানা প্লাজার মাটিতেই আছে।রানা প্লাজার পাশের ভবনগুলো দেখিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ওই ভবনগুলো তো ভাঙলো না। এই ভবন কেন ভাঙল? ’

সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার সুরে তিনি বলতে থাকেন, ‘ছেলেটাকে দুনিয়াতে তো সুখী হতে দিলা না, পরকালে তাকে যেন সুখী করো।’

জামালপুর থেকে এসেছেন খোরশেদা বেগম। তার ছেলে ছেলে আল-আমিন (শান্ত) দুর্ঘটনার প্রথম দিনই উদ্ধার হয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। ছেলের লাশ বাড়িতে পৌঁছালেও কিন্তু তিনি তার ছেলের কর্মস্থল দেখার জন্য রানা প্লাজার সামনে এসেছেন। বললেন, ‘ছেলের লাশ দাফনের পর থেকে বাড়িতে থাকতে মন চায় না।’  তাই ছুটে এসেছেন এখানে।  ছেলের জন্য কাঁদছেন আর দোয়া করছেন।

রাজশাহীর চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছেন তাহমিনা বেগম। তিনি ছিলেন রানা প্লাজার আটতলার নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড কারখানার শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘আমি তো বেঁচে আছি। কিন্তু আমার সহকর্মী সবাই মারা গেছেন। ’

সকাল থেকে যারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাপ), গার্মেন্টস-শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ল্যাম্প পোস্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, অশি ফাউন্ডেশন, শ্রমিক নিরাপত্তা সুরক্ষা ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ তৃণমূল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প-শ্রমিক ফেডারেশন শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘রানা প্লাজার এই জমি অবিলম্বে অধিগ্রহণ করে নিহত-আহত শ্রমিকদের পরিবারের কাছে বরাদ্দ করতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আহত ও নিহত পরিবারের মধ্যে যেসব শিশু আছে তাদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মালিক শ্রেণির লোকজন এখনও এই জমি দখলে রেখেছে। তাদের আধিপত্যের কারণেই এই জমি অধিগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। চূড়ান্তভাবে যাদের সবকিছু হারিয়েছে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে এই জমিতে।’

গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু বলেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সোহেল রানাসহ ওই ভবনের সকল কারখানার মালিকের শাস্তি দাবি করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি। রানা প্লাজার পাঁচটা কারখানার মালিকদের পক্ষ থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নাই। খুনি মালিকদের বিচার হয় নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, এখানে কোনও সুস্থ পরিবেশ নাই। এতদিনেও শহীদ মিনার তৈরি হয় নাই। রানা প্লাজা নিয়ে এখনও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। অবিলম্বে রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হোক।’

নিলুফা বেগম নামের এক পঙ্গু শ্রমিক বলেন, ‘রানা সন্ত্রাসী ছিল। তার কোনও বিচার হয় নাই। আমাদের ভিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নাই। ’

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে