সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার এখন শুধু মরে যেতে ইচ্ছে করে’

news-image

নিউজ ডেস্ক : ‘আমার এখন শুধু মরে যেতে ইচ্ছে করে। এই মুখ আমি আর কাউকে দেখাতে চাই না। স্কুলে যাব না, পড়বও না। স্কুলে গেলেই তো সবাই আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে। আমার সাথে কেউ বসতেও চাইবে না। আমি তো আসামি। হত্যা মামলায় জেল খেটেছি। কেউ তো এটা বুঝবে না, মিথ্যা মামলায় আমি জেলে গেছি।’

এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার রিকশাচালক মো. খায়ের মিয়ার ছোট মেয়ে বুশরা আক্তার পান্না। পান্না স্থানীয় হাজি জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবারটির অভিযোগ, ভৈরব থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) নজমুল হুদার রোষানলে পড়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় পান্না। একই মামলায় তার সঙ্গে কারাভোগ করে তার বড় বোন দুই শিশুসন্তানের মা বন্যা বেগমও। কারাভোগের পর বাড়িতে এসেও তারা প্রায় অন্তরীণ অবস্থায় আছে, লোকলজ্জার ভয়ে।

এলাকার আলোচিত ঘটনা হওয়ায় প্রতিদিন প্রতিবেশীরা ছুটে আসছে ওই দুই বোনকে দেখতে। তাই বর্তমানে নিজ বাড়িতে এক প্রকার বন্দিজীবনই কাটাতে হচ্ছে তাদের। মিথ্যা ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনে বাধা তৈরি করায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিচারসহ ওই মামলা থেকে মুক্তি চায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই বোনসহ তাদের পরিবার।

খায়ের মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম বীনা জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে একটি ডাকাতি মামলার সন্দিগ্ধ আসামি তাঁদের ছেলে কাউছারকে (২৫) গ্রেপ্তার করতে এসআই নজমুল হুদার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের বাড়িতে আসে। পুলিশ সদস্যরা আচমকা তাঁদের বাড়ির টিনের তৈরি প্রধান দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তখন ঘরে থাকা দুই বোন বুশরা ও বন্যা এগিয়ে গিয়ে বাড়ির গেটের কড়া না নেড়ে ভেঙে ঢোকার প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাজমুল হুদা দুই বোনকে কিল-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে পেটান এবং ঘরে ঢুকে কাউছারের খোঁজ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ঘরের আসবাব ও মালামাল তছনছ করতে থাকলে দুই বোন আবার প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে কাউছারকে না পেয়ে দুই বোনকে আবারও মারধর করে ধরে থানায় নিয়ে যান এসআই নাজমুল। সেখানে নিয়েও দুই বোনকে বেধড়ক পেটান নজমুল ও অন্য পুলিশ সদস্যরা।

ভৈরব থানার পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় ভৈরব থানার অদূরে আলশেফা হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসে থাকা এক যাত্রী পিকেটারদের ইট-পাটকেলে আহত হন। ওই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় পর ২০১৬ সালের ২২ জুন ভৈরব থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দুই বোনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন এসআই নজমুল।

মরিয়ম বেগম বীনা জানান, গ্রেপ্তারের পর তাঁরা কিশোরগঞ্জ কারাগারে দুই মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন মেয়েরা তাঁদের সঙ্গে এসআই নজমুল হুদাসহ অন্যদের অশালীন আচরণসহ শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবাসের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পায় বন্যা ও পান্না। বন্যা জানান, জেলে যাওয়ার পর তার দুই শিশু সন্তানকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাবার বাড়ি থেকে তাদের জিম্মায় নিয়ে যায়। শিশু দুটি থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন। মিথ্যা মামলায় জেলখাটা মেয়ে হিসেবে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে গ্রহণ করবে কিনা তিনি জানেন না।

এমন অপমান আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার তিনি আর কখনো হননি জানিয়ে বন্যা জানান, নির্যাতনের পর নজমুল হুদা হুমকি দিয়ে দুই বোনকে বলে দেয় ‘মাইরের কথা কাউরে বললে, তোদের আবারও কোর্ট থেকে থানায় আনা হবে। তখন বুঝবি মাইর কারে বলে।’ বিনা অপরাধে তাদের জীবনকে এমন দুর্বিষহ করে তোলায় এবং আর কোনো নিরপরাধ মেয়ের জীবন যেনো ধ্বংস না করতে পারে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজমুল হুদার বিচার দাবি করেন বন্যা।

বন্যা-পান্নার রিকশাচালক দরিদ্র বাবা খায়ের মিয়া জানান, জামিনে মুক্তি পেলেও ওই মিথ্যা মামলায় তো মেয়েরা অভিযুক্ত থাকলোই। তাই তিনি মামলাটি থেকেও তার মেয়েদের মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ করে এলেও তাঁর মেয়েরা জেল খাটলো বিএনপি-জামায়াতের পালন করা হরতাল-অবরোধের ঘটনার মামলায়। এটা তাঁর জন্য যে কতটুকু বেদনাদায়ক, তিনি ছাড়া আর কেউ বুঝবেন না সেটা। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এদিকে দুই বোন বন্যা-পান্নাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে চাপের মুখে পড়েন এসআই নজমুল হুদা। পরে এ ঘটনার কিছুদিন পর তিনি ভৈরব থানা থেকে বদলির আদেশ নিয়ে গাজীপুর জেলায় চলে যান বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। এনটিভি অনলাইন

এ জাতীয় আরও খবর

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন

এক বছর পর চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট