সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটকে পড়া এক পরিবারের আতঙ্ক

news-image

চট্টগ্রাম (সীতাকুণ্ড) প্রতিনিধি : প্রতিদিনের মতোই সাবিনা ইয়াসমিন সংসারের কাজ করছিলেন। স্বামী কোনো কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ছেলেমেয়েরা খেলা করছিল। বোন মর্জিনা আরবি পড়াচ্ছিলেন এক শিশুকে। কয়েক দিন আগে বেড়াতে আসা ভাই শাহাদাতও ছিলেন বাসায়। হঠাৎ তাঁরা সবাই দেখেন বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুরু হয় আতঙ্ক।

কী হচ্ছে বুঝে উঠতে পারছিলেন না পরিবারের কেউই। বাসায় থাকা তিন শিশুকে নিয়ে ভয়টা আরও বেশি। শাহাদাত হোসেন (২০) ফোন করেন দুলাভাই মো. সেলিমকে। বাড়ির বাইরে থাকা সেলিম খোঁজখবর নিয়ে জানান, নিচতলায় তাঁদের পাশের ফ্ল্যাটেই ‘জঙ্গিরা’ থাকেন। তাঁদের ধরতেই বাড়ি ঘিরে চলছে অভিযান। সেলিম পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভয়ের কিছু নেই। সবাইকে দরজা–জানালা বন্ধ করে চুপচাপ থাকতে বলেন।

খবর পেয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রেমতলা চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘ছায়ানীড়’ বাড়ির বাসিন্দা ওই পরিবারের। শাহাদাত মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে আশপাশের বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। কী হচ্ছে, তা বুঝতে চেষ্টা করেন। আতঙ্ক বেড়ে যায় গুলির শব্দ শুনে। শাহাদাত বলেন, ‘মনে হয়েছিল গুলিতেই মারা যাব। একসময় প্রচণ্ড শব্দ শুনি আমরা। সেটি কোনো বিস্ফোরণের হতে পারে। মনে হচ্ছিল, ভবন ভেঙে পড়বে। সারা রাত সবাই দোয়া পড়ে কাটিয়েছেন।’

সাবিনার বোন মর্জিনা (২২) বলেন, ‘পুরো রাত আল্লাহ আল্লাহ করে কাটিয়েছি। সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করার পর মনে হয়েছে, নতুন জীবন পেয়েছি।’

গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে মর্জিনার কাছে আরবি পড়তে এসেছিল নয় বছরের মাহমুদা সুলতানা তানিশা। শিশুটি বলে, ‘আড়াইটার দিকে মর্জিনা আপার কাছে আরবি পড়তে গিয়েছিলাম। গুলির শব্দ শুনে আর বাইরে বের হতে পারিনি। রাতে সবার সঙ্গে মেঝেতে শুয়ে ছিলাম। ভয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছি। আম্মুর জন্য কষ্ট হচ্ছিল। শুধু একটি আপেল খেয়েছি।’

অভিযান চলাকালে গ্যাসের কারণে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই পরিবারের সদস্যরা। মাহমুদা সুলতানা তানিশাও অসুস্থ। তাঁদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাবিনা ইয়াসমিন (৩০) একটু বেশি অসুস্থ থাকায় কথা বলতে পারেননি। তাঁর সাত বছরের মেয়ে ফাইরুজা হুমায়রা (৭) ও হেমায়েতউদ্দিন ইনানও (৪) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আতঙ্কিত শিশুরা মায়ের কাছে যেতে চাইছে।

হাসপাতালেই এই পরিবারের সদস্য ও মাহমুদা নিজেদের আতঙ্কের কথা জানাল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে পরিবারটিকে ছায়ানীড় থেকে বের করে আনা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফরিদ আহমেদ জানান, গ্যাসের কারণে তাঁদের শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার পর সেরে উঠবে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ি ঘিরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানকালে চার ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।

এ পর্যন্ত তিন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন। বাড়ি থেকে মোট ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে আর কোনো বাসিন্দা নেই।প্রথম আলো

এ জাতীয় আরও খবর

কলকাতা উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব হলেন উম্মে মারুফা

সঞ্চয়পত্রে ফিরেছে বিনিয়োগের ইতিবাচক ধারা

জামিননামা গ্রহণ, আজ মুক্তি পেতে পারেন কলিমউল্লাহ

অভিনয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে রোনালদোর

২ হাজার একর খাসজমি অবৈধভাবে দেওয়ায় ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

কক্সবাজারে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই বোনসহ নিহত ৩

গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করবে আগামী সপ্তাহে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা রাজনৈতিক: পার্থ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার

যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় ৪ শুটার ভাড়া, দাবি ডিবির

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে ইসি