মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎবিহীন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল

news-image

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে। তিন দফতরের মধ্যে রশি টানাটানির ফলে গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের সব ধরনের সেবা কার্যক্রম।

 

বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন, শিশুদের নেবুলাইজিং, পানি সরবরাহ, ইসিজিসহ অন্য কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।

হাসপাতালের আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বলে জানা গেছে। গত তিন দিন ধরে হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই। বার বার তাগাদা দেয়ার পরও ঝিনাইদহ ওজোপাডিকো, গণপূর্ত ও হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের মধ্যে রশি টানাটানির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে ডাক্তাররা রোগী দেখছেন। হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণে সোমবার বিকেল থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে পানি সরবরাহ। এতে করে খাবার পানি এবং টয়লেটের জন্য বাইরে থেকে পানি আনতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে। তবে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা।

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে হাসপাতালে সোমবার থেকেই বন্ধ রয়েছে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম। হাসপাতালে ইসিজি, এক্স-রেসহ অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় বাইরের ক্লিনিক থেকে এ কাজ চালাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে রাতের বেলায় মোমবাতি জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসককে।

বুধবার দুপুর ১২ টার পরে সদর হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগীর স্বজনের সাথে। তারা জানান, আমাদের ভোগান্তি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্যুত না থাকার কারণে আমরা পানি পাচ্ছি না। বাইরে থেকে পানি আনতে হচ্ছে। শিশুরা পায়খানা করলেও তা পরিষ্কারের জন্য হাসপাতালের বাইরে থেকে পানি আনতে হচ্ছে। রাতের বেলায় অন্ধকারে মশার কামড়ে থাকা যায় না।

তারা আরো জানান, শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য শিশুদেরকে নেবুলাইজিং করা যাচ্ছে না। শিশুদের শীতের কারণে হিট দেয়া যাচ্ছে না। এতে করে শিশু রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থার দ্রুত অবসান করা প্রয়োজন। অন্যথায় হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে রোগীদের।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন জানান, এখন ঋতু পরিবর্তনের সময়। কখনও ঠান্ডা আবার কখনও গরম পড়ছে। এসময় বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে। ১০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। কিন্তু গেল ৩ দিনে হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি একাধিকবার। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ও সিনিয়র গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ইমদাদুল হক জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ গণপূর্ত বিভাগের এসডি প্রকৌশলী রেজা তাইমুর মালিক জানান, আড়াইশ বেডের নির্মাণ কাজ শেষে আমাদের কাছে ভবন হস্তান্তর করার পর হাসপাতালের সব দায়িত্ব আমাদের হবে। এখন বিষয়টি হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (হিড) দেখছেন। তিনি আরো জানান, তবে চিঠি দিয়ে যদি হিড আমাদের দায়িত্ব দেয় সেক্ষেত্রে আমরা কাজ করতে পারবো।

ঝিনাইদহ ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, কাজটি আমাদের নয়, হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের। তারা আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন মেরামত করে দিলেই আমরা সংযোগ দেব।

তবে বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুর রউফ মণ্ডল জানান, হাসপাতালের মত জরুরি বিভাগে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই এটা খুবই কষ্টের ব্যাপার। বিষয়টি আমরা দ্রুতই দেখছি কেন এমনটি হল। তবে এ ব্যাপারে যদি কারো গাফিলতি থাকে তাহলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবো না। দোষী যদি কেউ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন দ্রুতই স্বাভাবিক হয় সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের