শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের নির্বাচনী ময়দানে নাটকীয়তা

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ফ্রান্সের নাটকীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ময়দানে উত্থান ঘটেছে নতুন এক তারকার। মধ্যপন্থি এ নেতা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলছেন। তিনি ইমানুয়েল ম্যাকরন। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই প্রার্থী নিজের এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতায় প্রতিবেশী জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। বিবিসি’র এক খবরে বলা হয়, ম্যাকরন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় লিয়ন শহরে বিশাল এক জনসমাবেশে তিনি এসব ঘোষণা দেন।
ক্ষমতাসীন সোস্যালিস্ট দলের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে গত বছর নিজেই একটি নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, রক্ষণশীল রিপাবলিকান দলের ফ্রাঁসোয়া ফিলন নয়, বরং তার সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে লড়াই হতে পারে উগ্র ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রার্থী ম্যারিন ল্য পেনের।
ল্য পেন তার আগ্রাসী ইইউবিরোধী নীতি, অভিবাসন ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন বিশ্বে। অনেকে তাকে ‘ফ্রান্সের ট্রাম্প’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। রোববার তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেয়ার কথা ছিল। লিয়ন শহরেই দলটি দুই দিনব্যাপী সমাবেশ আয়োজন শুরু করেছে। এসব সমাবেশে ল্য পেনের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রচার চালাবে ন্যাশনাল ফ্রন্ট। এসব ইশতেহারের মধ্যে ‘নিজেদের বাজেট, সীমান্ত, অর্থনীতি ও আইনের ওপর ফ্রান্সের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি অন্যতম। তবে মৃত্যুদণ্ড পুনঃপ্রবর্তনের দাবি থেকে সরে এসেছে ল্য পেনের দল।

২৩শে এপ্রিল ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ক্ষমতাসীন সোস্যালিস্ট পার্টির প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওঁলাদে নজিরবিহীনভাবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে জমজমাট হয়ে পড়ে নির্বাচনী ময়দান। এতদিন সোস্যালিস্ট পার্টির প্রধান প্রতিপক্ষ রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী ফ্রাঁসোয়া ফিলনকে এবারের নির্বাচনের ফ্রন্টরানার বিবেচনা করা হতো। কিন্তু জরিপে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলেও, এখন ফিলনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে তার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতদিন তার প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছিল তীব্র ডানপন্থি ল্য পেনকে। কারণ, ক্ষমতাসীন বামপন্থি সোস্যালিস্ট পার্টির জনপ্রিয়তা প্রায় তলানির দিকে। তাই রক্ষণশীল ফিলনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ থেকে ল্য পেন লাভবান হন। কিন্তু এরই মধ্যে আবির্ভাব ঘটেছে মধ্যপনিী ম্যাকরনের।
ম্যাকরনের নতুন দল ‘এন মার্চে’ তাকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। প্রায় ৮ হাজার মানুষের ওই জনসমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি এ কথা বলবো না যে, বাম বা ডানপন্থা অর্থহীন। বলবো না যে, তারা সব একই জিনিস। কিন্তু এই বিভাজন কি প্রতিবন্ধকতা নয়? আমি এই দুই ঘরানার ফ্রান্সকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই যারা অনেক দিন ধরে ক্রমেই পৃথক হয়ে যাচ্ছিল। আমি চাই আরো বেশি ইউরোপিয়ান প্রতিরক্ষা, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে অংশীদারিত্ব।’

নিজের ভাষণে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের নীতি নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ম্যাকরন। তিনি এ ক্ষেত্রে ১৯৪০ সালে জার্মানির সঙ্গে ফ্রান্সের দেয়ালের কথা তুলে ধরেন। কিন্তু ওই দেয়াল সত্ত্বেও হিটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। ম্যাকরনের ভাষ্য, ‘আমি দেয়াল বানাতে চাই না। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই আমার মাথায় দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। আপনারা কি ম্যাগিনট লাইনের কথা মনে করতে পারেন?’ ওডাইল ডাকলক্স নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ওই সভায় অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আমি সোস্যালিস্ট দলকে ভোট দিতে অভ্যস্ত। কিন্তু আমার স্বামী অনেক বছর ধরে বলছিল আমাদের এই ডান-বাম বিভাজন থেকে বের হওয়া উচিত। আর ইমানুয়েল ম্যাকরনের কথা শুনে আমি কনভিন্সড।’
বিভিন্ন মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। চূড়ান্ত রাউন্ডে ল্য পেনের বিরুদ্ধে হয় ফিলন অথবা ম্যাকরন থাকবেন। আর চূড়ান্ত রাউন্ডে ল্য পেনের বিরুদ্ধে যিনি লড়তে পারবেন তারই জয়ের সম্ভাবনাই প্রবল। তাই বলে বসে নেই ল্য পেন। তার প্রচারশিবিরের পরিচালক ডেভিড র‌্যাখলাইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জয়, ইউরোপজুড়ে ইইউবিরোধী ভোট ও ইইউ ছেড়ে বৃটেনের প্রস্থানের বিষয়টি ল্য পেনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়েছে।

অপরদিকে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে চাপে থাকা ফিলন শুক্রবার এক সমাবেশে বলেন, ‘তারা বিচার চাইছে না। তারা চায় আমাকে ধ্বংস করতে। তারা আমার পেছনে থাকা রক্ষণশীলদের ধ্বংস করতে চায়। নির্বাচন ছিনিয়ে নিতে চায়।’ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ফরাসি মনে করেন ফিলনের উচিত নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া। তবে ফিলন সরকারি তহবিল অপচয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপরদিকে জনপ্রিয়তায় তলানিতে থাকা সোস্যালিস্ট পার্টি সম্প্রতি এক কট্টর বামপন্থি বেনয়েট হ্যামনকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে। অপর তিন শীর্ষ প্রার্থীর চেয়ে কয়েক পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন তিনি। অর্থাৎ, তার অবস্থাও একেবারে খারাপ নয়। আরেকজন কট্টর বামপন্থি প্রার্থীও আছেন এ লড়াইয়ে। জ্যঁ লুক মেলেনচন নামে ওই প্রার্থীর সমর্থনও প্রায় ১০ শতাংশের ঘরে।

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ