মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার কথা বলে লিবিয়া, টাকার জন্য নির্যাতন

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুমন যেতে চেয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু বৈধ পাসপোর্টেই দালালরা তাঁকে নিয়ে যায় লিবিয়ায়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ টাকা আদায় করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দালালচক্রের একটি গোষ্ঠীকে ঢাকায় আটক করে এবং লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সুমনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

সুমনের (৩০) বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমণ্ডল গ্রামে। তাঁর বাবার নাম হোসেন আলী। ২৬ দিন লিবিয়ায় আটক থেকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর গত ১৯ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। আজ তিনি এনটিভি অনলাইনকে ঘটনার বিবরণ দেন।

সুমন দাবি করেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তিনি দালালকে প্রথমে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন। পরে আরো এক টাকা দেন। বৈধ পাসপোর্টেই ১০ ডিসেম্বর তিনি লিবিয়া যান। সেখানে যাওয়ার পর দালালচক্র তাঁকে আটকে রাখে এবং টাকার জন্য নির্যাতন করে।

লিবিয়ায় সেখানে সুমনকে আটকে রাখা হয়, সেখানে আরো ২৫-২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাঁদেরও টাকার জন্য নির্যাতন করা হতো।

সুমনের ভাষায়, ‘সেই ঘরের মধ্যে যে কী পরিমাণ নির্যাতন করত, তা অন্য কাউকে বলে বুঝানো সম্ভব না। ওদের এক একটা থাপ্পড়, ঘুষি খেলে মনে হতো তাড়াতাড়ি আমার যদি মরণ হতো, তাহলে হয়তো এদের হাত থেকে বেঁচে যেতাম।’

‘দিন কখন আসত আর রাত কখন হতো তা আমরা কেউই বুঝতে পারি নাই। আমাকে মেরে মেরে কান্নাকাটির শব্দ বাড়ির মানুষকে শোনাত, যাতে তারা টাকা দিতে বাধ্য হয়’, যোগ করেন সুমন।

এ বিষয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ৩-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার জানান, গত ২ জানুয়ারি সুমনের ছোট বোনের স্বামী মো. নুরুল ইসলাম আমাদের কাছে জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়ের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই আমরা তদন্ত শুরু করি। সুমনের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পাওয়ার পর চক্রটি আরো টাকা দাবি করে।

চক্রটি গত ৭ জানুয়ারি আরো এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে সুমনের পরিবারকে রাজধানীর বারিধারা এলাকার মোস্তফা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আসতে বলে। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার সময় চক্রের মূল হোতা সেলিমুজ্জামান (৪১), মো. শহীদুল ইসলাম (৪৭) এবং মাসুম আহমেদকে (৩৬) হাতেনাতে আটক করে র‍্যাব।

এর পরই লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সুমনকে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা।

দালালচক্রের কাছ থেকে ছেড়ে আসার বর্ণনা দিতে গিয়ে সুমন দাবি করেন, ‘তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে একটি বাসে তুলে দেয়। আমি লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে চলে আসি। পরে ১৯ জানুয়ারি সেখান থেকে বাংলাদেশ আসি।’

র‍্যাব ৩-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই চক্রের লোকাল এজেন্টরা স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁরা মালয়েশিয়া, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের জন্য জনপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে ঠিক করত। এই টাকা নিয়ে বিদেশি চক্রের কাছে তাদের হস্তান্তর করত। এই বিদেশি চক্র তাদের বন-জঙ্গলসহ বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করে, খুন করার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে।

র‍্যাব এখন পর্যন্ত এমন ৭০২ জনকে উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের