মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগার থেকে বেরিয়ে ছবি পোস্টের ঘটনায় যা বললেন রসরাজ

news-image

ফেসবুকে কী হয়েছে—এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না রসরাজ। তিনি বিলে মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ করে একদল লোক এসে তাঁকে মারধর শুরু করে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে আটক হওয়ার দিনের ঘটনা এভাবেই বর্ণনা করেন রসরাজ দাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হন রসরাজ। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। রসরাজ নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে।

নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে রসরাজ বলেন, ‘আমি আমার জীবন লইয়া চিন্তায় আছি। জেলহানায় থাহনের সময় লোকজনকে কতা কইতে হুনছি যে জেল থেইক্যা ছাড়া পাইয়া এলাকায় গেলে নাকি লোকজন আমারে মাইরধর করব।’ তাই প্রশাসন ও পুলিশের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানান রসরাজ।

রসরাজ আরও বলেন, ‘আমি ফেসবুক চালাইতে জানি না। পাসওয়ার্ড কিতা এইডাও বুঝি না। আমার একটা দামি টাচ মোবাইল আছিল। হেইডা দিয়া ফেসবুক চালাইতাম। আর ছবি দেখতাম। জলে পড়নের ভয়ে বিলে যাওনের সময় মোবাইলডা বাড়িতে রাইখা যাইতাম।’

ফেসবুক কে খুলে দিয়েছে, জানতে চাইলে রসরাজ বলেন, ‘ঘটনার মাস তিনেক আগে ফেসবুকে ছবি দেখবার লাইগ্যা চাচাতো ভাই হৃদয়রে ফেসবুক খুইল্যা দিতে কইছিলাম। ওই দিন সকালে বিলে থেইক্যা বাড়িতে যাওনের সময় রাস্তায় কজন পুলাপান আমারে ধইরা মাইরধর শুরু করছে। পরে আমারে ধইরা নিয়া পুলিশের কাছে দিয়া দিছে।’ রসরাজ আরও জানান, ফেসবুকে পোস্ট হওয়া ধর্মীয় অবমাননাকর সেই ছবিটি তিনি এখনো দেখেননি।

রসরাজ আরও বলেন, ‘আমি পুরা নির্দোষ। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কেডা বা কারা ছবি দিছে, আমি কইতাম পারি না।’ তবে যারা ফেসবুকে এই ছবি দিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান রসরাজ।

বাড়ি যাওয়ার আগে রসরাজ বলেন, ‘এখন বাড়িত মা-বাবার কাছে যামু। সেখানে আগের পেশা মাছ ধরার কাজ আবার শুরু করমু।’

রসরাজকে নিতে কারাফটকে এসেছিলেন তাঁর মামা ইন্দ্রজিৎ দাস, বড় ভাই দয়াময় দাস ও ভগ্নিপতি নেপাল চন্দ্র দাস। পরে তাঁদের সঙ্গে দুপুরের দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নিজ বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

কারাফটকে রসরাজের মামা ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, ‘গ্রামে গিয়ে আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেই রসরাজের বাড়িতে থাকা না-থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘রসরাজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নাসিরনগর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমরা তৎপর আছি।’

গত বছরের ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর একটি ছবি পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে। পরের দিন হরিণবেড় গ্রাম থেকে রসরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসিরনগর থানার এসআই কাউসার হোসেন বাদী হয়ে সেদিন রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন।
ফেসবুকে পোস্ট করা ওই ছবি ধর্মীয় অবমাননাকর অভিযোগ তুলে ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে আরও কয়েক দফায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় করা আটটি মামলায় এ পর্যন্ত ১০৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

prothom-alo.com

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের