বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮০ ভাগ এলপি গ্যাস সিলিন্ডারই ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সতর্কতার কারণে বছরের নানা সময়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ও ব্যবহারের অযোগ্য এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বাতিল করলেও সংস্থাটি দাবি করেছে, ৮০ ভাগ এলপি গ্যাস সিলিন্ডারই ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার নিয়েই চলছে আমাদের দৈনন্দিন পথচলা।

image-12571

সূত্র মতে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য ৯ হাজার ৬৯২ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বাতিল করেছে বিপিসি। চলতি বছর জুলাই থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ মাসে এসব সিলিন্ডার বাতিল করা হয়।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলপি গ্যাসের পুরনো সাড়ে লাখ সিলিন্ডারের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাথমিক অবস্থায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫০ হাজার এবং পর্যায়ক্রমে সাড়ে চার লাখ সিলিন্ডার বাতিল করবে বিপিসি।

বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা জানান, চলতি বছর জুলাই মাসের আগে ১১ হাজার ২৮৯টি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বাতিল করা হয়। জুলাই মাস থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে ১৩ হাজার ৯৭৯টি সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে নয় হাজার ৬৯২টি। অবশিষ্ট চার হাজার ২৮৭টি সিলিন্ডার মেরামত করে এক হাজার ভালো পাওয়া গেছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, অধিক পুরনো ও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারে গ্যাস না ভরার জন্য বিপিসির দুটি প্ল্যান্ট চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সিলেটের কৈলাশটিলার সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছর ২০ আগস্ট এলপিজির উত্তরাঞ্চলীয় ডিপোতে ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম বেশ কিছু সিলিন্ডার পরীক্ষার করে ৮০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাতিলযোগ্য বলে মতামত দেন। এরপরই ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিপিসি।

বিপিসি সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্ট থেকে বছরে ১৪ হাজার এবং সিলেটের কৈলাশটিলা প্ল্যান্টে ছয় হাজার টন গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে বোতলজাত করে বিপিসি। এসব সিলিন্ডার অনেক পুরনো।

সূত্র মতে, ৩০ বছরের পুরনো হওয়ায় এসব সিলিন্ডারের ভাল্ব দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়। বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা জানান, সারাদেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংখ্যা চার লাখ ৩২ হাজার ৯২৬। বিপিসি পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস বিপণন করে।

জানা গেছে, চলতি বছর ২০ আগস্ট বিপিসির-এলপিজি গ্যাসের বগুড়ার উত্তরাঞ্চলীয় আঞ্চলিক ডিপোতে ঘষা লেগে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বেশকিছু সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং ১৯৩টি সিলিন্ডার পুড়ে যায়। এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে গুদামে মজুত থাকা বেশ কিছু সিলিন্ডারের মুখে পানি ভরে পরীক্ষা করার পর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম মতামত দেন যে, বিপিসির ৮০ শতাংশ সিলিন্ডারই ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্রটি জানায়, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্টে মেরামতের বাইরে দিনে গড়ে ২৫০টির বেশি সিলিন্ডারের ভাল্ব পরিবর্তন করা হয়। একটি সিলিন্ডারের মানের ওপর নির্ভর করে সেটির মেয়াদ কত দিন।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ফজলুর রহমান খান জানান, চট্টগ্রামের প্ল্যান্টে প্রতিমাসে চার থেকে ছয় হাজার ও সিলেটের কৈলাশটিলার প্ল্যান্টে দুই থেকে তিন হাজারের বেশি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয়। সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার আগে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত