মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেঁতুলিয়ায় শিল্পকারখানা স্থাপনে ব্যাপক সাড়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শিল্পকারখানা স্থাপনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অধিকাংশ জমি বিক্রি হয়েছে।

image-10488

এসব জমির ক্রেতারা কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। ফলে তেঁতুলিয়ায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার হাতছানিতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর পর তেঁতুলিয়ার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট এভাবেই পাল্টে যাচ্ছে।

১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্ত পথ দিয়ে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়। এ ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে নেপালের সঙ্গে শুধু বাংলাদেশ পণ্য আমদানি-রফতানি শুরু হয়। তখন শিগগিরই বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে শোনা গেলেও কয়েক বছর কেটে যায়। এরপর ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

তখন থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে স্বল্প পরিসরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হয়। সেই দিন থেকে বিভিন্ন পণ্য ব্যাপকভাবে আমদানি ও রফতানির সুযোগসহ পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ইমিগ্রেশনসহ পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর ঘোষণা দেয়া হলে বদলাতে থাকে তেঁতুলিয়ার দৃশ্যপট।

এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ী শিল্পকারখানার জন্য পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া এবং তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা মহাসড়কের দুই পাশে জমি কেনা শুরু করেন। ফলে জমির দাম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা মড়াসড়কের দুই ধারে নজরে আসে অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড।

বহুজাতিক কোম্পানির শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য এসব সাইনবোর্ড লাগানো হয়। কিন্তু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় কেনা জমিগুলো দীর্ঘদিন পতিত থাকে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের কেনা জমির চারপাশে দেয়াল দিয়ে ঘিরে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করে। কিন্তু তিন মাসের প্রতিশ্রুতি শেষ হলেও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় শিল্প কারখানা স্থাপনে আরও ভাটা পড়ে। কাজ গুটিয়ে সবাই চলে যায় নিজ নিজ জায়গায়।

এভাবে কয়েকবার ঘোষণার পরও বিভিন্ন কারণে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু হয়নি।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমাদ পঞ্চগড় সফরে এসে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন অর্থনৈতিক জোন করার ঘোষণা দিয়ে পঞ্চগড়ের বিবিআইএনের সদর দফতর গড়ার কথা জানান।

দীর্ঘ দেড়যুগ পরে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হয়। আর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর মধ্যে নড়েচড়ে বসেন উদ্যোক্তারা।

ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করার নিমিত্তে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সড়কের দুইধারে কিনে রাখা জমিতে অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শুরু করেন। কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে যাবে এখানকার শিল্প কারখানাগুলো। এতে কর্মসংস্থান হবে হাজার মানুষের। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে ভারতে রফতানি করা হবে। অল্প খরচে বেশি লাভ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রাণ এবং আরএফএল এর পণ্য এখন গোটা ভারতে। এখন তারা ভারতে কারখানাও স্থাপন করেছে। সেখানে উৎপাদিত পণ্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাজার জাত করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় শিল্প কারখানা স্থাপন করে সেই পণ্য ভারতের বাজারে রফতানি করে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্যের ভারসাম্য অনেকটা পরিবর্তন হবে।

তেঁতুলিয়ায় সস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায়। সে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক কম। শিল্প উদ্যোক্তরা বলছেন, প্রতিবেশী ভারতে আমাদের পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে। বাংলাবান্ধার বিপরীতে ফুলবাড়ী থেকে সড়ক পথে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র ৯ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যা সেভেন সিস্টারস খ্যাত আসাম, মিজোয়াম, ত্রিপুরা, লাগাল্যান্ড, মনিপুর, অরুণাচল ও মেঘালয় রাজ্যের একমাত্র প্রবেশ পথ। একই সঙ্গে ফুলবাড়ি দিয়ে নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গেও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

পর্যটন এলাকা জলপাইগুড়ি ৪০ কিলোমিটর এবং দার্জিলিংয়ের দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার। এছাড়া নেপালের কাকরভিটা সীমান্ত ৩৪ কিলোমিটার মাত্র। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। আর ফুলবাড়ী থেকে আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন বা এনজিপি। এখান থেকে রেলপথে ভারতের যে কোনো রাজ্যে যাতায়াত করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর নতুন ব্যবসাবাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা সরব হয়ে উঠেছেন।

এ দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৩ এপ্রিল একটি নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেটে নির্দিষ্ট ১৭টি পণ্য ছাড়াও অন্যান্য পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে নতুন পণ্য আমদানিও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক-রেল সংযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা নিশ্চত করা হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চল দেশের তৃতীয় বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি লাভ করবে।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের