শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়নগরে নৈশ প্রহরি চালায় বামানেহ্ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিদেশী অর্থায়ন বন্ধ

brahmanbaria-pic_206-12-2016আমিরজাদা চৌধুরী, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা॥ ’মায়ের মৃত্যুর হার কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা চিহ্নিত করা, জটিল গর্ভাবস্থার চিকিৎসা করা এবং প্রয়োজনে সঠিক স্থানে প্রেরণ করা’- এসব উদ্দেশ্যে নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাটারনাল এন্ড নিউনেটাল হেলথ (বামানেহ্) স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরুর পর হাজার হাজার মা ও শিশুর সেবা দেয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলায় কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার দুই যুগের মাথায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে কোন চিকিৎসক নেই। এখন কেন্দ্রটি চালান একজন নৈশ প্রহরী। যে কোনো সময় এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন বিজনগরের লাখো মানুষ বিশেষ করে সেখানকার মা ও শিশুরা।
জানা যায়, বিদেশি অর্থায়নে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মিরাসানী গ্রামে স্বাস্থ্যটি চালু হয়। প্রথমে ওই গ্রামের বাহার মিয়া ও পরে মো. আব্বাস উদ্দিনের বাড়িতে এর কার্যক্রম চলে। পরবর্তীতে মিরাসানী গ্রামের মন্নুজান বেগম নামে এক নারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য ৩০ শতাংশ ভূমি দান করেন এবং ভবন নির্মাণের জন্য নগদ এক লাখ টাকাও দেন। ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবনেরর যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয়রা জানায়, কেন্দ্রটির পাশের বাড়ির ফরিদ মিয়া এটি বর্তমানে দেখাশুনা করেন। মো. ফরিদ মিয়া জানান, সকাল নয়টা থেকে চারটা পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে। সরজমিনে সকাল সাড়ে নয়টায় এসে প্রধনা ফটকে তালাবদ্ধ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফরিদ মিয়া ও আধা ঘন্টা পর সিনিয়র অর্গানাইজার রওশন আরা আসেন। জানা গেল, নৈশ প্রহরি ফরিদ মিয়া ছাড়া কেউ বেতন পান না। রওশন আরা চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে বেতন না পেলেও নিজ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত কেউ সেবা নিতে আসেননি।

 
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা, গেছে, মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবার জন্য চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্তত সাতজন এখানে কর্মরত ছিলেন। এখানে গর্ভকালীন চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়াবেটিকস, ইউরিন পরীক্ষা ও ব্লাড গ্রুপিং এর সেবা দেয়া হতো। এর বিনিময়ে নাম মাত্র টাকা নেয়া হতো। বিজয়নগর উপজেলার মিরাসানী, নয়াবাদী, নলগড়িয়া. কাশিনগর, উথারিয়াপাড়া, মধ্যপাড়া, চাওড়া, আলীনগর, খিরাতলা, কাঞ্চনপুর, শ্রীপুর, কাশিমপুর, বিষ্ণুপুর ও দুলালপুর এই চারটি গ্রামের নারীদেরকে কাজ করতেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরের গ্রামের লোকজনকেও সেবা দেয়া হতো এখানে।
মিরাসানী মিরাসানী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য শেখ মো. কামাল জানান, এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি ছিল অনন্য। মহিলাদের পাশাপাশি সকলেই এখানে সেবা নিতে পারতো। সপ্তাহে দু’দিন এখানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক আসতো। কিন্তু সেবা দিন দিন নিচের দিকে যাচ্ছে। এ কারণে মানুষ এখানে যেতে চান না।
একই এলাকার মেসার্স সাদ মেডিকেলের স্বত্বাধিকারি মো. আবু শামীম বলেন, একের পর এক কর্মী ছাটাইয়ের কারণে এটি অচল হয়ে পড়েছে। আমার স্ত্রী রত্মা খাতুনও এখানে হিসেবে চাকুরি করতেন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে বেতন বন্ধ করে দেয়া হলে সে আর এখানে যায় না। রতœা খাতুন বলেন, চার বছর চাকুরিকালে অন্তত ১০ জনকে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই ডেলিভারি করিয়েছি। অন্তত ১০০ জনকে বাড়িতে গিয়ে ডেলিভারি করেয়েছি। বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় আর সেখানে যাই না।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ প্রহরি মো. ফরিদ মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে। সিনিয়র সিনিয়র অর্গানাইজার রওশন আরা জানান, ১৯৯২ সালে চালু হওয়ার পর এর প্রথম কর্মী আমি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মা চিহ্নিতকরণ ও তাদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। বর্তমানে সেবা দেওয়ার মতো কেউ নেই বলে লোকজন এখানে আসতে চান না। মিরাসানী গ্রামের মো. বশির আহমেদ বলেন, আমার বোন মন্নুজান অনেক আশা নিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য জমি দান করেছিলেন। জমিদাতা মন্নুজান বেগম জানান, বাবার স্বপ্ন পূরণে ও এলাকাবাসীর সেবার জন্য আমি জমি দেই। কিন্তু এখন মানুষ সেবা পাচ্ছে না। বামানেহ্ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর মো. শফিকুল হায়দার বলেন, ’সুইস রেডক্রস ১৯৯২ সাল থেকে ২০০০ পর্যন্ত হাসপাতালের জন্য অনুদান দেয়। পরবর্তীতে ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ভিত্তিক সংগঠন ভাইটল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তা করেন। কিন্তু বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কথা বলে এখন ভাইটাল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসছে না। এখন তারা বলছে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে এটি পরিচালনা করতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। যদি সেবা দেয়া সম্ভব না হয় তাহলে জমিদাতাকে জমি ফেরত দিয়ে দেয়া হবে।
বামানেহ্ এর সহ-সভাপতি সাদিকা তাহেরা খানম বলেন, স্থানীয়ভাবে জায়গা পাওয়া, ভবন নির্মাণে সহায়তা পাওয়ায় বেশ ভালোই চলছিল এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। আগের দাতারা এখন আরা সাহায্য করতে রাজি নন। আর্থিক সংকটের কারণে এখানে আগের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারি নেই। এখন শুধু নৈশ প্রহরীর বেতন আমরা দিচ্ছি। সারাদেশে বামানেহ্ এর মোট ৩২টি শাখা আছে। এর মধ্যে ২৮টির জন্য সহায়তা করে ইউএসএইড। বিজয়নগরেরটিসহ বগুড়ার সারিয়াকান্দি, কুমিল্লার চান্দিনা ও ফরিদপুরের আলফাদাঙ্গার জন্য দাতা খোঁজে পাওয়ায় ইউএসএইডের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল না।

 

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ