বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে চোরাচালান: নিয়মিত অভিযান হয় না

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সমুদ্রপথে চোরাচালান রোধে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাত্র দুটো টেহল নৌযান রয়েছে। তাও আবার পাঁচ বছর ধরে অকেজো। তাই সমুদ্রপথে চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান চালাতে পারে না চট্টগ্রাম কাস্টমস। আবার পর্যাপ্ত লোকবল নেই। ঘাটতি রয়েছে আন্তরিকতারও। মাঝেমধ্যে ভাড়া করা জাহাজ অথবা শিপিং এজেন্টের জাহাজ ব্যবহার করে মাঝে মাঝে ‘অসফল’ অভিযান চালানো হয়।

image-5837

অথচ চট্টগ্রাম অঞ্চলে চোরাচালান কর্মকাণ্ডের বড় অংশই সংঘটিত হয় নৌ আর সমুদ্রপথে। সূত্র মতে, সমুদ্রপথে চোরাচালান তদারকিতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রয়েছে ‘রামেজ ডিভিশন’ ও ‘এফ ডিভিশন’ নামে দুটো ডিভিশন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে অভিযান পরিচালনার জন্য নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। তাই দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগ দুটির সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে সমুদ্রপথে আসা পণ্যবাহী জাহাজ ও নৌযানের তদারকি।

কাস্টমস সূত্র মতে, চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রামেজ ডিভিশনের অধীনে ‘সফেন’ ও ‘সমীক্ষা’ নামে দুটি পেট্রল বোট (পিবি) থাকলেও তা পাঁচ বছর ধরেই অচল। এতে বন্ধ রয়েছে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান। জাহাজ দুটি সচল করতে এবং জাহাজ রাখার জেটি (পন্টুন জেটি) মেরামতের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করলেও তা কোনো কাজে আসেনি।

এদিকে পর্যাপ্ত লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বহির্নোঙরে খালাস হওয়া বাল্ক (খোলা) পণ্যবাহী জাহাজও তদারক করতে পারছে না এফ ডিভিশন। বিশেষ করে অয়েল ট্যাংকারে কী পরিমাণ তেল রয়েছে, তা পরিমাপ করার যন্ত্রপাতি নেই এ বিভাগে। অথচ কয়লা, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, স্ক্র্যাপ, বিটুমিন ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ দেশের মোট আমদানির ৭০ শতাংশ পণ্যই আসে এসব বাল্ক জাহাজযোগে।

সূত্র মতে, রামেজ ও এফ ডিভিশনে অন্তত ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্যসহ ৫০ জন লোকবল থাকার বিধি থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন ১০ জনের মতো।

বিভাগ দুটির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মো. খাইরুল আলম বলেন, ‘পেট্রল বোট দুটি সচল না থাকা এবং পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে ডিভিশন দুটির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তাছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। প্রায় সময় ভাড়া করা জাহাজে করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিভাগ দুটিতে কর্মরত আরেক কর্মকর্তা জানান, জলযান সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বছরে দু-তিনবার তদারকির নামে দু-একটি পণ্যবাহী জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। নিজস্ব জাহাজ না থাকায় শিপিং এজেন্টের জাহাজ ব্যবহার করতে হয় বিধায় নিরপেক্ষভাবে তদারক করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে এসব জাহাজে আসা বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ পণ্য বহির্নোঙরেই সরিয়ে ফেলা হয়। বিশেষ করে আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পার্কি বিচ এলাকায় ছোট-মাঝারি নৌকায় করে সহজেই মাদকদ্রব্য সরিয়ে ফেলা যায়।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ চোরাচালান বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রাম কাস্টমসের চোরাচালান প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে ‘অবৈধ বাণিজ্য’ তৈরি হয়েছে। বহির্নোঙরে একটি জাহাজকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ওই সময় অবৈধভাবে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাল্ক জাহাজ থেকে সরিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে। যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তারা এ সুযোগ কাজে লাগাবে, এটাই স্বাভাবিক।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত