বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বর্গ থেকে নেমে আসা রংধনু নদী

 
কানো ক্রিসটেলস। কলম্বিয়ার একটি নদীর নাম। এটা যেনতেন নদী নয়। এটাকে বলা হয়ে থাকে ‘স্বর্গ থেকে নেমে আসা নদী, তরল রংধনুর নদী ও পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন নদী।’

colourful_river_top1475724234
কেন এমনটি বলা হয়? আসলে রঙের মেলা এখানে । যেটাকে রঙের স্বর্গ বলা হয়। প্রকৃতির গুপ্তধনে সমৃদ্ধ এক নদী। যে নদীটি কেবল একটি কিংবা দুটি রঙে রঙিন নয়, পাঁচ-পাঁচটি দর্শণীয় রঙে রঙিন। জীব-বৈচিত্রে ভরপুর আর সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ। যেটাকে দেখলে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা তার নিপুণ হাতে পৃথিবীর এক কোণে রঙ ঢেলে সাজিয়েছেন নদীটিকে।

নদীটি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে ১০০ কিলোমিটার বয়ে গেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় নদীটি স্বাভাবিক। তখন আর দশটি পাহাড়ি নদীর মতো ধূসর পাথরের তলদেশ, শান্ত পানি ও পরিস্কার স্রোত থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুম শেষে, বর্ষা মৌসুমে (জুলাই-নভেম্বর) পাঁচটি রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

তখন নদীর তলদেশে লাল লতা-গুল্মের মতো তরল পদার্থ, যেটা নদীর স্রোতের সঙ্গে দুলতে থাকে। তার সঙ্গে কিছু পাথরের গায়ে জমে থাকা সবুজ শ্যাওলার আভরণ, কালচে পাথরের রং, হলুদ বালু ও ঝিলমিল স্বচ্ছ পানির নীলাভ আভা (নীল রং)- যা স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলে সেখানে।
যেখানে স্রোত বেশি সেখানে লাল রঙের গুল্ম জাতীয় পদার্থটি পাথরের গায়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। নদীর তলদেশে ও পাথরের গায়ে জন্মে সবুজ গুল্ম ও শ্যাওলা। এখানকার পানি এতোই স্বচ্ছ যে তার রং নীলচে মনে হয়। বালুগুলো হলুদ রংয়ের। আর ১২০০ মিলিয়ন (১.২ বিলিয়ন) বছরের পুরনো পাথর ধূসর রং ছেড়ে কালচে রং ধারণ করেছে। যা স্বচ্ছ পানির ঝিলমিল স্রোতের নিচে দেখতে অসাধারণ লাগে। যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য এসে ধরা দিয়েছে এখানে।

নদীটি যে শুধু পাঁচটি রঙের কারণেই সুন্দর তা কিন্তু নয়। পাশাপাশি এখানে রয়েছে ঝর্ণাধারা, সুইমিং পুলের মতো দেখতে জলাশয় ও গুহা। যা নদীটির সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি নদীটিকে করেছে রহস্যময়ী। আশ্চর্য্য যে- নদীটিতে মাছ কিংবা অন্যান্য জলজ কোন প্রাণী নেই। যা এখানে আসা দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে সাঁতার কাটা ও নিশ্চিন্ত মনে গোসল করার পরিবেশ দেয়।
আরো রহস্যময় হল- এটি কলম্বিয়ার এমন একটি দূর্গম স্থানে, যেখানে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এক সময় এটি সহজগম্যও ছিল না। তারপরও নানা ঝক্কি-ঝামেলা মাথায় নিয়ে দুঃসাহসিক ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা সেখানে গিয়েছে। নয়নভরে উপভোগ করেছে কানো ক্রিসটেলসের স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য। এখন অবশ্য পার্শ্ববর্তী শহর লা মাকারিনা থেকে আকাশপথে সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি রয়েছে ট্যুরিস্ট গাইড। যারা পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে স্বর্গ থেকে নেমে আসা এই নদীর কাছে। তবে বিমান থেকে নেমে নদীর পার্শ্ববর্তী রাস্তা ধরে হেঁটে কিংবা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছাতে হয় কানো ক্রিসটেলসের কাছে। এক সময় এখানে প্রচুর ডাকাত পড়ত। দর্শনার্থীদের সর্বস্ব লুটে নিত তারা। এমনকী খুনও করত। এখন অবশ্য তেমনটি হয় না। হওয়ার সুযোগও নেই। কারণ, ২০০৯ সাল থেকে এটি ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করেছে কলম্বিয়া। আর তারও অনেক আগে থেকে কানো ক্রিসটেলস নদী, এর জন্মদানকারী পাহাড় ও এই অঞ্চলটিকে সংরক্ষিত এলাকাভূক্ত করা হয়েছে।

এখন কানো ক্রিসটেলসের পাশে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে। আছে পরিবার পরিজন নিয়ে গিয়ে বন-বাদাড়ে রান্নাবান্না করে খাওয়ার সুব্যবস্থাও।

কানো ক্রিসটেলস যে অঞ্চলে অবস্থিত সেই মাকারিনা অঞ্চলটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলে ভরপুর তিন ধরণের বাস্তুসংস্থানের মধ্যে পড়েছে। এর একদিকে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালার ছোঁয়া, একদিকে ইস্টার্ন লানোস (বৃক্ষশূন্য তৃণময় সমভূমি) ও অন্যদিকে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট।

যে পাহাড় থেকে কানো ক্রিসটেলস নদীর উৎপত্তি তার নাম ‘সেরেনিয়া দে লা মাকারিনা’। এই পাহাড়টি দৈর্ঘ্যে ১২০ কিলোমিটার। প্রস্থে ৩০ কিলোমিটার। পাহাড়টির শীর্ষচূড়ার উচ্চতা ২ হাজার ৬১৫ মিটার (৮ হাজার ৫৭৯ ফুট)। এই পাহাড়টি ৪২০ প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য, ১০ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বাসস্থান, ৪৩ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণির ও ৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাসস্থল।

এমন একটি পাহাড় থেকেই তো কানো ক্রিসটেলসের মতো একটি স্বর্গীয় সৌন্দর্য্যমন্ডিত নদীর উৎপত্তি হতে পারে। তাই নয় কী!

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত