,

সিরিয়ার বাবা-মা তাদের সন্তানদের কি গল্প শোনায়?

4362986_origআমি আমার সন্তানদের বুঝাতে ব্যর্থ হই যে, তাদের ঘিরে কি চলছে? বিশেষ করে যাদের জন্ম যুদ্ধের পরে। আমি তাদের যুদ্ধ সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করি এবং ভুল ও সঠিক পথের ব্যাখা দেই। তাদের বিপ্লব ও স্বাধীনতার জন্য আমাদের দাবির কথা বলি।
আমি তাদের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তার বিক্ষোভ মিছিলের কথা বলি। কিভাবে তার ট্যাংক এবং সেনাবাহিনীর ভয়ে সিরিয়ার অর্ধেকের ও বেশি লোক পালিয়ে গিয়েছে। কথাগুলো বলছিলেন একজন বাবা।
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ শুরুর ৫ বছর পর এখন আর শিশুরা বিমানের শব্দে সচকিত হয় না। তাদের মধ্যে কেউ ভয়ে চিৎকার করে, কাঁদে আবার কেউ হাসে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, বোমা কি? এটি কেন মারা হয়? সব-সময় কেন বোমার আঘাত চলতেই থাকে ? এই বিমানগুলো কোন জায়গা থেকে আসে? কে চালায়?
আমার ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে যুদ্ধের সময় জন্মগ্রহণ করেছে। স্বাভাবিক জীবন সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। সে ধ্বংস, ধ্বংসাবশেষ, দেয়াল বা ছাদ ছাড়া ঘর-বাড়ি, পোড়ানো গাছ দেখে অভ্যস্ত। সে কখনো পার্কে বা থিয়েটারে যাওয়ার বায়না ধরে না। কারণ তার জন্মের আগেই আলেপ্পোতে এগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
সে জানে বোমা পড়লে মানুষ মারা যায়। তবে সে কখোনোই স্বাভাবিক মৃত্যু কি সেটি বুঝতে পারে না। আমাদের এক প্রতিবেশি’র মৃত্যু হলে সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, তিনি কি গোলা-বারুদের আঘাতে মারা গিয়েছেন? আমি বললাম, না, তাহলে কি বোমার কারণে? আমি আবার বললাম, না। বোমার টুকরো’র আঘাতে? না। আমার উত্তর শুনে সে দ্বিধান্বিত হয়ে বসেছিল। এরপর বলল, তাহলে তিনি কিভাবে মারা গিয়েছেন? এটি তার কাছে বলা খুব কঠিন যে মানুষ কিভাবে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।
আমার বড় ছেলে ইব্রাহিমের বয়স ১০ বছর। তার পা এবং তলপেট আহত হয়েছিল। এখন সে যে কোন অপরিচিত শব্দ বা বিকট শব্দ শুনলে ভীত হয় ওঠে। সেটি হোক কোন বিমান, মোটরসাইকেল বা গাড়ি। সবকিছুর শব্দ তার কাছে বোমা মনে হয়। একবার তাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সে লাফ দিয়ে পড়ে যায়। কারণ সে এর শব্দকে বোমা মনে করেছিল।
আমি আমার পরিবারের সাথে একটি ঘণ্টাও বিচ্ছিন্ন থাকি না কারণ আমি তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। আলেপ্পো মানেই বিপদ। একদিন আমার ছেলে দোকানে যাওয়ার পর তার পা ও জীবন প্রায় হারাতে বসেছিল, দোকানটি বোমারুবিমানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি যখন বিমান হামলার কথা শুনি বাড়িতে এসে দেখি ইব্রাহিম বাসায় ফেরে নি। আমি ১ ঘন্টার ও বেশি সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে তাকে খুঁজি।
এরপর তাকে স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খুঁজে পাই। আমি বিশ্বাস করতে পারি নি যে আমি তাকে জীবিত খুঁজে পাব। রক্ত এবং ধূলোয় তার শরীর মাখামাখি ছিল। সে যখন সংকটমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক হল আমাকে জিজ্ঞেস করল না কে তাকে বোমা মেরেছে? কারণ সে জানে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের শাসন চলছে।
সে ক্রমাগত কাঁদছিল এবং অষ্পষ্ট কথা বলছিল। আমরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করি যে সে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে। সে বারবার বলছিল তার পা কেটে ফেলা হয়েছে। তাকে বিশ্বাস করাতে অক্ষম হয়ে আমরা তার পায়ের ছবি তুলে তাকে দেখাই। এরপর সে নিশ্চিত হয় যে, তার পা ঠিক আছে।
সূত্র: সিএনএন

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে