বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনশন ভাঙার ঘোষণা দিলেন শর্মিলা

sormila১৬ বছর পর অনশন ভাঙার ঘোষণা দিলেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের মানবাধিকারকর্মী ইরম শর্মিলা। নিজ রাজ্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিতর্কিত বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিরোধিতা করে টানা ১৬ বছর পর অনশন ভাঙার পর বলেছেন, মণিপুর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান তিনি।

এদিকে ২০০০ সালের ১ নভেম্বরে থেকে অনশন শুরুর আগে শক্ত খাবার হিসেবে সর্বশেষ মিষ্টি খেয়েছেন শর্মিলা। এরপর আর কোনো শক্ত খাবার খাননি তিনি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন ইরম শর্মিলা। কান্নায় ভেঙে পড়ে হাতের তালুতে মধু নিয়ে তা খেয়ে অনশন ভাঙেন তিনি। নতুন জীবনে রাজনীতি ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়ে শর্মিলা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি দেবী নই, আমি একজন মানুষ হতে চাই। আমি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।’

ইরম শর্মিলা বলেন, ‘সবাই ভাবে, আমি একজন আশ্চর্য মানুষ। আমি অন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই বলে রাজনীতি নোংরা, কিন্তু তাহলে সমাজও তো তা-ই।’

১৬ বছর আগে সর্বশেষ মিষ্টি খেয়েছেন শর্মিলা। ১৬ বছর আগে সেদিনের কথা বর্ণনা করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরম শর্মিলা বলেন, ‘দুই প্যাকেট মিষ্টি কিনে একটি গাছের নিচে বসে একাই খেয়েছি মিষ্টিগুলো।’ সেই মিষ্টির কথা এত বছর পরেও মনে আছে তাঁর। ওই মিষ্টির প্যাকেটের কথা আজও মনে রাখার কারণও হলো, সেটাই এখন পর্যন্ত তাঁর শেষ শক্ত খাবার।

মণিপুরের লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত ৪৪ বছর বয়সী শর্মিলা ২০০০ সালে অনশন শুরু করেছিলেন। এই অহিংস আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি বিচারিক হেফাজতে আছেন। টানা ১৬ বছর ধরে অনশনের সময় এই নারী কোনো খাবার খাননি। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের একটি কারা হাসপাতালে তাঁর নাকে পাইপ দিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়। অনশনের নামে শর্মিলা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

২০০০ সালে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মণিপুরের ১০ নিবাসী নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা এএফএসপিএ (আফসপা) বাতিলের দাবিতে অনশন শুরু করেন ইরম শর্মিলা। ২৬ জুলাই তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন। ইরম শর্মিলা একজন লেখক ও কবি। ১২টি কবিতা নিয়ে তাঁর একটি বইও আছে।
সরকারি পশু চিকিৎসা বিভাগের কর্মী ইরম নন্দ আর ইরম শখির নয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ইরম শর্মিলা।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত