বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অযোগ্য হলেন নির্বাচনে

032935tarek-rahman-01_kalerkantho_picবিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অযোগ্য হয়ে পড়লেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবিধান অনুযায়ী তিনি এ সাজা না খাটা পর্যন্ত অথবা দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ এ রায় বাতিল না করা পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্টের এই রায় আপিল বিভাগে স্থগিত বা বাতিল হলে তাঁর নির্বাচন করতে কোনো বাধা থাকবে না। তবে সে ক্ষেত্রে তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ করে সাজা বাতিলের আবেদন করতে হবে। অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবেদন করার সুযোগ পাবেন তিনি। এর আগ পর্যন্ত তাঁর আর নির্বাচন করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ফৌজদারি কোনো অপরাধের মামলায় যদি কোনো ব্যক্তির কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়, তাহলে ওই সাজা ভোগ করে মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেই কেবল তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না; যদি (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদে সংসদের মেয়াদকাল পাঁচ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে।’ দেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে সংবিধানের এই অুনচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে যদি কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যায় এবং নতুন নির্বাচন হয় সে ক্ষেত্রেও তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারবেন না। কারণ আইনের দৃষ্টিতে তিনি এখন পলাতক ও সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সংবিধান অনুযায়ী এ সাজা না খাটা পর্যন্ত কিংবা তাঁর সাজা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য থাকবেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, তারেক রহমান যদি আপিল না করেন এবং সাজা যদি আপিল বিভাগে বহাল থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়বেন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তারেক রহমান পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। ২০১৯ সাল অনেক দূরে। ওই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এখনো আপিল বিভাগে বিচার শেষ হয়নি। আইনের আরো এক ধাপ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, এ মামলায় আপিল বিভাগে সাজা বহাল থাকবে কী থাকবে না তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সমাধানে আসা যাবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে আপিল বিভাগ যদি তার আগেই তাঁর সাজা বাতিল বা স্থগিত করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন।

http://www.kalerkantho.com/

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত