বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের কাছে যাওয়ার কথা ছিল এসি রবিউলের

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামের বাড়িতে থাকেন বৃদ্ধা মা করিমন নেছা। সঙ্গে ছোট ভাই। সেই মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে কাল রোববার যাওয়ার কথা ছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলামের। উৎসবের পরিবর্তে সেই বাড়িতে এখন শোক আর শোক।

photo-1467468908

 

ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের গুলি ও গ্রেনেড হামলায় যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে রবিউল ইসলামও রয়েছেন।তাই কাটিগ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধা মা ও স্বজনের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কিছুক্ষণ পরপর মা মূর্ছা যাচ্ছেন। মানুষের জীবনরক্ষায় আত্মত্যাগী এই পুলিশ কর্মকর্তার জন্য এলাকা তথা পুরো জেলায় নেমেছে শোকের ছায়া।রবিউলের মামাতো ভাই রুবেল হোসেন ও স্বজনরা জানান, রবিউলের বাবা আবদুল মালেক মারা গেছেন। মায়ের নাম করিমন নেছা। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি।

 

 

রবিউলের ডাকনাম কামরুল। তাঁকে এই নামে ডাকতেন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্ঠরা।কাটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৯৭ সালে কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রবিউল। এরপর ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেন অনার্স-মাস্টার্স।২০০৮ সালে ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া এলাকার সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোলজুড়ে আসে সামিউল ইসলাম। তাঁর বয়স এখন ছয় বছর। আর সাত মাসের আরেক অনাগত সন্তান স্ত্রীগর্ভে রেখেই আত্মত্যাগ করলেন পুলিশের এই সহকারী কমিশনার।

 

 

রবিউল ২০১১ সালে গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেন ব্লুম বিশেষায়িত একটি প্রতিবন্ধী স্কুল। পরে ইতালি চলে যান তিনি।সেখান থেকে এসে বিসিএসের ৩০তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালের জুন মাসে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন রবিউল। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে থাকতেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন কোয়ার্টারে।

আজ সকালে রবিউলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ছেলে হারিয়ে বৃদ্ধা মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। আহাজারি করছেন স্বজনরা।

স্ত্রী ও ছেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই বাড়িতে এসেছেন। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী আসছেন সেখানে।

কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা পাচ্ছেন না। সবার চোখেই পানি। শোকে স্তব্ধ সবাই।

রবিউলের উকিল শ্বশুর স্থানীয় আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম জানান, গত ২৪ জুন রবিউল বাড়ি এসে এলাকার দুস্থ ও অসহায়কে যাকাতের কাপড় এবং লুঙ্গি বিলি করেছেন। ওই দিনই নিজের গড়া স্কুলে ইফতার ও দোয়া মাহফিল করেছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ছুটিতে আগামীকাল রোববার তাঁর বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁকে লাশ হয়ে আসতে হচ্ছে।

এদিকে আজ দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান ওই বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিকেলে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে রবিউলের প্রথম জানাজা হবে। এরপর মানিকগঞ্জের বাড়িতে আনা হবে মরদেহ। বাড়িতেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত