বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরো ঢাকাকে বাস ও রেলপথের অধীনে আনতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

Sheikh-Hasinaনিউজ ডেস্ক : দেশের প্রথম ম্যাস র‌্যপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে মেট্রোরেলের প্রথম অংশের (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত) নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের নির্মাতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রকল্পে মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত করা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করব- এটা যেন ফার্মগেট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফার্মগেট একটি জংশন পয়েন্ট। সেখান থেকে সারা ঢাকা যোগাযোগ করা যায়। মেট্রোরেল সেখানে গেলে আরও বেশি মানুষ উপকার পাবে। মেট্রোরেলেরও ভালো পয়সা কামাই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পুরো ঢাকাকে বাস ও রেলপথের অধীনে আনতে চাই। এজন্য এমআরটি সঙ্গে বিআরটি নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

তিনি জানান, এমআরটি উত্তরা থেকে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পর্যন্ত যাবে। এতে ৬০ হাজার যাত্রী উত্তরা থেকে মতিঝিল মাত্র ৩৮ মিনিটে যেতে পারবে। অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি সময়ও কম লাগবে।

এ সময় শেখ হাসিনা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন করারও ঘোষণা দেন।

মেট্রোরেলের রুট উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে। এ অংশেরই কাজের আনুষ্ঠানিক শুরু হল আজ। আর ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত বাকি অংশ মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

মেট্রোরেল তৈরির মাধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বমানে উন্নীত হওয়ায় যানজট কমে যাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, দ্রুত, ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন থাকবে। স্টার্ট পয়েন্ট মেট্রো ডিপো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে উত্তরা নর্থ, এরপর পর্যায়ক্রমে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০, কাজিপাড়া, তালতলা হয়ে আগারগাঁও।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ১৬টি স্টেশন হবে। পরবর্তী পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও মোড়, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, শাপলা চত্বরে। প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পর স্টেশনে থামবে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর মেট্রোরেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ১১ জুলাই ডিপোর ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু হয়।

প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। তবে ২০২০ সালে মধ্যেই আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আশা ব্যক্ত করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ৭টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে- বিজয়সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি), বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল শাপলাচত্বর।

মেট্রোরেলের ঘণ্টায় গতি হবে গড়ে ৩২ কিলোমিটার (সর্বোচ্চ ১শ’ কিলোমিটার)। এই রুটে চলাচল করবে মোট ১৪টি ট্রেন। প্রতিটিতে ৬টি করে বগি থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে ৯৪২ জন যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে যাতায়াত করবে। প্রতি ৪ মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে যাবে।

পুরো ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেল বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ৫ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত