মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেখতে আম নয়, তবুও আম

Mangoনিজস্ব প্রতিবেদক : আমটির নাম মাহালিশা। তবে এটা যে আম, প্রথম দেখাতে তা মনেই হবে না। কিছুটা কলা আর শসার আদলের। লম্বায় পাঁচ ইঞ্চি, বেশ সরু। পেকে গেলেও হলদে ভাবটা বেশ কম। তবে স্বাদে বেশ মিষ্টি, আঁশও কম। আম মনে না হলেও এর দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজির দাম ৪০০ টাকা।

রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে আয়োজিত তিন দিনের জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে মাহালিশা আমই সবচেয়ে দামি—এমন দাবি করছেন গ্রিন টাচ অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. শাহাজ উদ্দিন। প্রদর্শনীর প্রবেশমুখেই তাঁর স্টল। যেখানে সাজিয়ে রাখা মাহালিশা আম।

দাম বেশি কেন?—জানতে চাইলে শাহাজ উদ্দিন বেশ দীর্ঘ বর্ণনা দেন। যার সারসংক্ষেপ হলো, মাহালিশা আমটির জন্মস্থান থাইল্যান্ডে। সেখানে এটি ‘বানানা ম্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত। সন্ধান পেয়ে শখ করে সেখান থেকে দুই হাজার টাকায় এর চারা কিনে দেশে আনেন তিনি। বছর চারেক আগে ৭০টি মাহালিশার চারা রোপণ করেন খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়ায় নিজের বাগানে। এক বছরের তরতর করে বড় হতে থাকে এর চারাগুলো। গাছে ধরে যায় মুকুল। কিন্তু বেশ কিছু গাছ দুর্বল হয়ে যায়। এ জন্য অন্য কয়েকটি গাছের মুকুল ফেলে দেওয়া হয়। মুকুল রেখে দেওয়া গাছগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে যায়। পরিচর্যা করে পরের বছর একেকটি গাছ থেকে ২৫-৩০টি মাহালিশা আম পাওয়া যায়। তাঁর আশা, গাছগুলোর বয়স পাঁচ-সাত বছর হলে প্রতিটি গাছ থেকে হাজারখানেক আম পাওয়া যাবে। তখন মাহালিশা আমের দাম কমে আসবে। একেকটি মাহালিশার ওজন তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ গ্রাম।

আম উৎপাদনে থেমে যাননি শাহাজ উদ্দিন। জালিয়াপাড়ার ৪০ একরের বাগানের একটি বড় অংশে মাহালিশার চারা উৎপাদনের কাজ চলছে। ফল প্রদর্শনীতে প্রতিটি চারা বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ টাকায়। জানালেন, মাহালিশা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী। স্বাদেও মিষ্টি। এ দেশের আমের মৌসুমে এর পূর্ণতা আসে।

মাহালিশার আকারের ঠিক বিপরীত কুমড়াজালি আমটি। আকারে এটি বেশ মোটাসোটা, গোলগাল; রং গাঢ় সবুজ। চালকুমড়ার মতো দেখতে প্রতিটি কুমড়াজালি আমের ওজন হয় ছয় শ থেকে সাত শ গ্রাম। জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে কুমড়াজালি আম পাওয়া যাচ্ছে মেসার্স মৌসুমি নার্সারি ও ফল বিতানের স্টলে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, চারা লাগানোর পর তিন বছরের মধ্যে কুমড়াজালি আম পাওয়া যায়। প্রথমে এর সংখ্যা কম থাকবে। বয়স বাড়লে আমও বেশি ধরবে গাছে। এই আমটি তাঁরা রাজশাহীতে উৎপাদন করছেন। খোসা মোটা হলেও আমের আঁটি চিকন। স্বাদে মিষ্টি। দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহেল বাকী জানান, জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে আছে ১০৫ জাতের আম। এখন আমের মৌসুম। প্রচুর আম উৎপাদন হয়েছে সারা দেশে। তাই বেশির ভাগ স্টলে আমের বিক্রি বেশি।
প্রদর্শনীতে মাহালিশা কিংবা কুমড়াজালি নয়; মোহনবাঁশি, ছাতাপড়া, মাদ্রাজী তোতা, বোম্বাই খিলশপাত, মধু ভোগ, দুধসর, নাগফজলি নামে অসংখ্য অচেনা আমের দেখা মিলেছে। এ ছাড়া চিরচেনা হিমসাগর, আম্রপলি, বোম্বাই, লক্ষণভোগ, হাড়িভাঙ্গা, চোসা, হাড়িপছন্দ আম তো আছেই। প্রথম আলো

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের