,

সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার ক্ষমতা নেই!

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন তিনি এ পথ দিয়িই চলাচল করতেন। তিনিও জানতেন না এই গাছটি হবে তার মৃত্যুর কারণ। রাজধানীজুড়ে ঝড়ে হেলে পড়া, উপড়ে পড়া, মরা গাছ কাটার দায়িত্ব সিটি করপোরশেনের। তবে দায়িত্ব থাকলেও এসব গাছ কাটার ক্ষমতা নেই সিটি করপোরশেনের। গাছ কাটার আগে অনুমতি নিতে হয় পরিবেশ অধিদফতরের। এদিকে, রাজধানীর মৃত বা হেলেপড়া গাছ শনাক্তে কোনও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই সিটি করপোরশেনে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে সবার আগে প্রয়োজন রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ গাছ শনাক্ত করা। আর এই দায়িত্ব সিটি করপোরশেনের।
ধানমণ্ডির ৪/এ সড়কে প্রবেশ করে একটু সামনে এগুলেই ১১ নম্বর বাড়ি। এই বাড়িটির সামনের ফুটপাতের ওপর একটি বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছটির পুরো অংশই ছিল রাস্তার ওপরে। ১১নম্বর বাড়ির ঠিক উল্টোপাশেরই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান কার্যালয়।a124698f55308c66b77f8c8515099e10-56dde0c0d382d
জানা গেছে, সোমবার দুপুর সোয়া দুটার দিকে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটির গোড়ায় ১১ নম্বর বাড়ির সামনেই গাড়ি পার্কিং করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চালক সোহরাব হোসেন। সে পথেই যাত্রী নিয়ে গাছের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল রিকশা। হুট করেই কৃষ্ণচূড়া গাছটি পড়ে রিকশার ওপর। সেই রিকশাতেই বসা ছিলেন চিত্রপরিচালক ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হেলে পড়া কৃষ্ণচূড়া গাছটির শেকড় শুকিয়ে আছে। গোড়ার দিকের অনেক অংশ পচে গেছে। গাছটি বেশি বাঁকা থাকায় পুরো অংশই ছিল সড়কের ওপর।
গাড়িটির চালক সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সব সময় এখানেই আমরা থাকি। গাড়ি বের করে এখানে রাখি। অন্য সময় এখানে আরও অনেক গাড়ি থাকে। গাছটি পড়ার সময় আমি লাফ দিয়ে সরে যাই। গাছটির গোড়ার দিক গাড়ির পেছনের অংশের পড়ে, আর মাথার অংশ পরে রিকশার ওপর। রিকশায় বসা যাত্রীর (মিঠু) মাথায় গাছের ডালের আঘাত লাগে। আঘাত লাগার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি ছটফট করতে থাকেন। তার (মিঠু) নাক, কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।

 

 

গাছ পড়ার শব্দে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে ছুটে এসেছিলেন সহকারী উপ-পুলিশ পরির্দশক (এএসআই) আব্দুল মোতালেব। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাছ পড়ার শব্দে ছুটে এসে দেখি, গাছের নিচে পড়ে আছেন রিকশা চালক ও যাত্রী (মিঠু)। তার (মিঠু) পাশেই পড়ে ছিল রক্ত মাখা কিছু সিডি। লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অফিসে ফিরেই এসেই টেলিভিশনে দেখি তিনি খালিদ মাহমুদ মিঠু, তিনি আর বেঁচে নেই।

 

 

ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল আমিন  বলেন, গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হলে অপসারণের দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু চাইলেই আমরা গাছ কাটতে পারি না। গাছ কাটার জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া, মরা গাছ কাটতে গেলেও পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। ফলে, গাছ হেলে পড়া না পর্যন্ত কাটার সুযোগ থাকে না।

 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর  বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের জন্য আইনি জটিলতা দূর করা উচিত। এছাড়া, গাছের তালিকা করে ঝুঁকির্পূণ শনাক্তে নিয়মিত মনিটরিং করা উচিত।

তবে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ