মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে সংঘর্ষে নিহত-১, আহত- ৪০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাট

20160221_113027সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : তুচ্ছ ঘটনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরাইলে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে কিরন মিয়া (৫৫) নামের এক মৎসজীবি নিহত হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পাঁচ পুলিশ সদস্য সহ আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন। সকাল বাজারের ৮-১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। এ ঘটনায় সরাইল-অরুয়াইল সড়ক দুই ঘন্টা বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। গত শনিবার রাত ৯টায় সরাইল সদরের সকাল বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলা সদরের বেপারী পাড়ার আবদু মিয়ার ছেলে মৎস আড়তের কোষাধ্যক্ষ রাতিন (১৮)। একই গ্রামের ওয়ালি মিয়ার ছেলে মাছ বিক্রেতা মুরছালিন(১৮)। রাতিন মুরছালিনের কাছে ২৫০ টাকা পাবে। এ বিষয়ে তারা দুজন প্রথমে বাক-বিতন্ডা ও পরে হাতাহাতি শুরু করে। মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্ধা বাজারের ব্যবসায়ি নান্নু মিয়া (৫০) গিয়ে তাদের উপর চড়াও হয়। নান্নু মিয়ার সাথে যোগ দেয় তার চাচাত ভাই কামাল সহ কয়েকজন। তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। মূহুর্তের মধ্যে বাজারে অবস্থানরত বেপারী পাড়া ও মালিগাঁওয়ের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কোথাও বিদ্যুতের আলো। কোথাও অন্ধকার। এই অবস্থার মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আতঙ্কে সকাল বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে মালিকরা। সরাইল-অরুয়াইল সড়কে যান চলচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নান্নু মিয়ার দোকান, একতা ও বিছমিল্লাহ মৎস আড়ত সহ ৮-১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের পর লুটপাট করে দাঙ্গাবাজরা। এক সময় সংঘর্ষটি খন্ড যুদ্ধে রুপ নেয়। সরাইল থানা পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে জেলা থেকে এক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ ডেকে আনে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা ও ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। দুই ঘন্টা স্থায়ী এ সংঘর্ষে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শের আলম মিয়া, সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল আলীম, কন্সটেবল মোঃ জাহাঙ্গীর , মোঃ শাহাদাৎ , মোঃ জহির ও মোঃ মান্নান আহত হন। এ ছাড়া নারী পুরুষ ও শিশু সহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কিরন মিয়াকে প্রথমে সরাইল পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় প্রেরন করা হয়। ভৈরব পার হওয়ার পর রাত ২টায় কিরন মিয়া মারা যায়। গতকাল পুলিশ জেলা সদর হাসপাতালে নিহত কিরন মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছে। সকাল বাজার পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শাহ শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ৮-১০টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শের আলম মিয়া বলেন, প্রভাবশালী জনৈক নেতার ছত্রছায়ায় বেপারী পাড়ার কয়েকজন ডাকাত সড়কে নিয়মিত ডাকাতি করছে। সম্প্রতি ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আমি ঝগড়া থামাতে গেলে তারা সেই ক্ষোভে আমার উপর হামলা চালায়। তাদের উদ্যেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে পুলিশ অবস্থান করছে।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের