বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল ব্যবস্থা আধুনিকায়নের নামে বারবার অর্থ অপচয়

www.bonikbartaবঙ্গবন্ধু সেতুর টোল ব্যবস্থা আধুনিকায়নে তিন বছর আগে স্থাপন করা হয় ‘টাচ অ্যান্ড গো’ টোল বুথ। ৬ কোটি টাকার সে বুথ আর চালু হয়নি। এখন আবার সেতুটিতে ই-টিকেটিংয়ের নামে নতুন করে টাচ অ্যান্ড গো প্রযুক্তি বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একে টোল ব্যবস্থা আধুনিকায়নের নামে অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, বঙ্গবন্ধু সেতুতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গাড়ি চলাচল করে। এতে দৈনিক প্রায় ১ কোটি টাকার টোল আদায় হয়। এজন্য সেতুর দুই প্রান্তে টোল আদায়ে বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ চলে। তাই টোল আদায় পদ্ধতি রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিতই বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চালুও রয়েছে।

এদিকে টোল আদায় কার্যক্রম মনিটরিং ও শতভাগ টোল আদায় নিশ্চিত করতে সেতুটির দুই প্রান্তে প্রতিটি বুথে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু সেতুর কন্ট্রোল রুম ছাড়াও রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত সেতু ভবন থেকে টোল আদায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর পরও ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু করতে ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। অথচ একই ধরনের প্রকল্প ২০০৯ সালে নেয়া হয়। ৬ কোটি টাকার সে প্রকল্প সফল হয়নি।

সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় দিকের টোল সেন্টারে গাড়ি প্রবেশের জন্য ছয়টি করে লেন রয়েছে। এর মধ্যে একটি করে বুথে পরীক্ষামূলকভাবে টাচ অ্যান্ড গো প্রযুক্তি বসানো হয়। ২০০৯ সালে নেয়া প্রকল্পটি ২০১২ সালে শেষ হয়। সেটি সফল হলে পরবর্তীতে পুরো সেতুর টোল ব্যবস্থাই ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল।

টাচ অ্যান্ড গো প্রযুক্তিতে সেতুটির টোল পরিশোধের লেনের সামনে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে গাড়ির ধরন শনাক্ত হবে। সে অনুযায়ী, গাড়ির টোল নির্ধারণের পাশাপাশি প্রি-পেইড স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে টোল আদায় হবে। এ প্রযুক্তিতে ডিজিটাল কার্ড টাচ অ্যান্ড গো-সংশ্লিষ্ট মেশিনে স্পর্শ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ হয়ে যাবে। এতে সময় কম লাগার পাশাপাশি টোল ব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ ও শতভাগ আদায় নিশ্চিত হবে। নতুন কার্ড কিনে ও পুরনো কার্ড রিচার্জ করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারকারীদের সহজেই এ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এজন্য কানাডা থেকে বেশকিছু স্মার্টকার্ডও আনা হয়।

পরে সেটি আর চালু করতে পারেনি সেতু কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রকল্পটির আওতায় সেতু ব্যবহারকারী যানবাহনের আকার শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে ওই প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কাজ না করায় প্রকল্পটি স্থগিত রাখা হয়। গাড়ির ধরন ম্যানুয়ালি ট্র্যাকিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও স্মার্টকার্ড বিক্রি ও রিচার্জের ব্যবস্থা করতে না পারায় পরীক্ষামূলক পদ্ধতিটি পরে বাতিল হয়ে যায়।

নতুন প্রকল্পেও একই ধরনের প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্ক্যানারের মাধ্যমে গাড়ির ধরন শনাক্ত করে টোল নির্ধারণ করা হবে। আর গাড়িতে থাকা স্মার্টকার্ড মেশিনে স্পর্শ করলে টোল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাটা হয়ে যাবে। এক্ষেত্রেও আগে থেকেই কার্ড বিক্রি করবে সেতু বিভাগ। থাকবে কার্ড রিচার্জের ব্যবস্থাও। তবে শতভাগ গাড়িতে স্মার্টকার্ড নাও থাকতে পাারে। তাই বিদ্যমান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় ব্যবস্থাও বহাল রাখা হবে। এজন্য দুই ধরনের পৃথক টোল বুথ থাকবে।

জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দৈনিক এক লাখের বেশি গাড়ি চলছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। এতে সেতুতে টোল আদায় কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে এ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পুরনো ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা ছিল। এজন্য নতুন করে প্রযুক্তিটি চালু করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নতুন প্রযুক্তি চালু করতে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়ার পর বর্তমানে তা মূল্যায়ন চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের গাড়ির সুনির্দিষ্ট আকার নেই। বিশেষ করে বাস-ট্রাকের আকার বড় করা হয়। স্ক্যান করে গাড়ির সঠিক আকার বোঝা সম্ভব নয়। তাই নতুন প্রযুক্তিতেও পুরনো সমস্যা হতে পারে। আর সবার কাছে কার্ড না থাকায় বিকল্প হিসেবে বিদ্যমান ব্যবস্থাও চালু রাখতে হবে। এতে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া স্মার্টকার্ড বিক্রি ও রিচার্জের ব্যবস্থাও করা যায়নি। এ কারণে নতুন প্রকল্প নিয়েও জটিলতা হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, উন্নত দেশগুলোয় সেতুর টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা কার্যকর আছে। তবে বাংলাদেশে ট্রাক-বাসের শুধু চেসিস আমদানি করা হয়। বডি তৈরি করা হয় দেশেই। ফলে এগুলোর আকার ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করা হয়। এতে স্ক্যানার দিয়ে যানবাহনের আকার নির্ধারণ করা কঠিন। আর স্ক্যানারে ভুল উঠলে সেখানে চুরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই প্রাথমিক ব্যবস্থা সংস্কার না করে ই-টিকেটিং বা টাচ অ্যান্ড গো চালু করলে অর্থের অপচয় হবে, সুফল মিলবে না।

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে