সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধন্যবাদ এর বদলে পেলাম বহিস্কারাদেশ

Masum Pic=1আমিরজাদা চৌধুরী : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মহিউদ্দিন খান মাসুম। তার বহিস্কারাদেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের গত কমিটিতে ছিলেন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। মাসুম জেলার বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। পেশাগত ভাবে তিনি একজন আইনজীবি এবং জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর। তার বিরুদ্ধে ঘটনার সময় মাদ্রাসার পক্ষ নিয়ে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে মহিউদ্দিন খান মাসুম বলেছেন- পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রশাসন ও আওয়ামীলীগ নেতাদের কথায় মাদ্রাসায় যান এবং গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে হরতাল প্রত্যাহারের ব্যাপারে। এসময় মাদ্রাসার ছাত্ররা তাকে দালাল বলে মারধোরও করেছে বলে জানান তিনি। মাসুম বলেন ধন্যবাদ পাওয়ার পরিবর্তে তার ভাগ্যে কেন বহিস্কার জুটলো তা তিনি বুঝতে পারছেননা।

শনিবার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির এক সভায় মহিউদ্দিন খান মাসুমকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১১ ই জানুয়ারী দিনভর মাদ্রাসা ছাত্রদের তান্ডব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির এই জরুরী সভাটি হয়।
এই সভায় গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সাথে ছিলো মহিউদ্দিন খান মাসুমকে বহিস্কারের সিদ্ধান্তও। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সভায় সর্বসম্মতভাবে জেলা কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদ থেকে মহিউদ্দিন খান মাসুমকে সাময়িক বহিস্কারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কেন স্থায়ীভাবে তাকে বহিস্কার করা হবে না সেই জবাব চেয়ে নোটিশ দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন-তিনি ঐ ঘটনার সময় দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত ছিলেন। তাকে আমরা কারন দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছি। এর জবাব পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন মাসুম মাদ্রাসায় গেছেন তাতে আমাদের আপত্তির কোন কিছু নেই। কিন্তু তিনি সেখানে উস্কানীমূলক কথাবার্তা বলেছেন। রাতে ছাত্রটি মারা যাওয়ার পর সকালে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে এসব কথাবার্তা বলেন বলে জানান আওয়ামীলীগের এই নেতারা। দলের শার্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে কটাক্ষ করেও তখন কথা বলেন মাসুম। তিনি ঘটনার সময় এক নেতাকে ফোন করে এমনও বলেছেন- ‘এখন তোদের এমপি কই,সেক্রেটারী মামুন কই। তাদের বল আমারে ফোন দিতে’। তিনি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গচুর-অগ্নিসংযোগ থেকে রক্ষায় কোন ভূমিকা নেননি বলেও দলের নেতারা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে প্রথম দিনের ঘটনার সময় যুবলীগ-ছাত্রলীগের এবং পুলিশের কারা সক্রিয় ছিলেন তাদের নামধাম মাসুমের মুখ দিয়ে মাদ্রাসায় উচ্চারিত হয় বলে জানান দলের নেতারা। দলীয়সুত্র জানায়- এসব কারনেই ক্ষুব্দ হন জেলা নেতৃবৃন্দ তার ওপর। এ বিষয়ে মহিউদ্দিন খান মাসুম বলেন- কোন গুনাহের কারনে বহিস্কার হলাম তা বুঝতে পারছিনা। যেখানে তাদের আমাকে ধন্য বাদ দেয়ার কথা সেখানে করলো বহিস্কার। ডিসির হুকুম মতো আমি সারাদিন-রাত পরিশ্রম করলাম,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কাজ করলাম। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দায়িত্বশীল আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাও আমাকে পুশ করেন মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্যে। জেলা প্রশাসক ছাত্র মারা যাওয়ার পর ভোর ৫ টার আগেই আমাকে ফোন করে মাদ্রাসায় যেতে বলেন। তখন অন্ধকার থাকায় আমি সকাল হওয়ার পর বাসা থেকে বের হই। মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্র মারা যাওয়ার খবর পাই। এরপর মাদ্রাসায় থেকে সারাদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাড়াতাড়ি নিহতের পরিবারের কাছে দেয়ার জন্যে প্রশাসনে যোগাযোগ করি।এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হরতাল ডাকলে তা অফ করতে ভূমিকা রাখি। বিজিবি,র‌্যাব,পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদ্রাসায় কয়েক ঘন্টা বৈঠক করে হরতাল প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করি। আমি আর ডাক্তার বজলুর রহমান ছাড়া তখন স্থানীয় আর কেউ ছিলোনা। ১২ ই জানুয়ারী সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে উপস্থিত থেকে হরতাল অফ করিয়ে বাড়ি ফিরি । এসময় মাদ্রাসা ছাত্ররা আমাকে দালাল বলে গালাগাল করে। লাথি মারে,লাঠি দিয়ে শরীরে আঘাত করে। এরপর বড় হজুর আমাকে লোক দিয়ে রাত ১১ টায় বাড়িতে পাঠান। এখন আমার কি অপরাধ বুঝতে পারছিনা। হয়তো আমি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এটাই আমার অপরাধ। মহিউদ্দিন খান মাসুম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সম্পর্কে মামা হন। তিনি শহরের পৈরতলা খা বাড়ির বাসিন্দা।
আওয়ামীলীগের ঐ সভায় ভাঙ্গচর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা চলাকালে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয় ভূমিকার নিন্দা করে প্রস্তাব গ্রহন করা হয়।এছাড়া সভায় মাদ্রাসা ছাত্রদের সাথে জেলা পরিষদ মার্কেট ব্যবসাযীদের সংঘর্ষ,মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, আর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তান্ডব চালানোর বিষয়ে বিচার বিভাীয় তদন্ত দাবী করা হয়। সভায় মাদ্রাসা ছাত্রদের নিন্দনীয় ভূমিকা অস্বীকার করে প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারকউল্লাহর করা সংবাদ সম্মেলন প্রত্যাখ্যান করা হয় । এছাড়া পুরো ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়। জেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি এডভোকেট আবু তাহেরকে এর আহবায়ক করা হয়েছে। অন্যন্য সদস্যরা হচ্ছেন এডভোকেট নূর মোহাম্মদ জামাল, এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, এডভোকেট তানবীর ভূঞা ও এডভোকেট নাজমুল হোসেন। সভায় ক্ষতিগ্রস্থ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা তাজ মো.ইয়াছিন,হেলাল উদ্দিন,মুজিবুর রহমান বাবুল,মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু,মঈনউদ্দিন মঈন,গোলাম মহিউদ্দিন খোকন, এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন,সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তানজিল আহমেদ, জহিরুল ইসলাম ভূঞা ও এডভোকেট রাশেদুল কায়সার জীবন প্রমুখ।

এ জাতীয় আরও খবর

কলকাতা উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব হলেন উম্মে মারুফা

সঞ্চয়পত্রে ফিরেছে বিনিয়োগের ইতিবাচক ধারা

জামিননামা গ্রহণ, আজ মুক্তি পেতে পারেন কলিমউল্লাহ

অভিনয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে রোনালদোর

২ হাজার একর খাসজমি অবৈধভাবে দেওয়ায় ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

কক্সবাজারে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই বোনসহ নিহত ৩

গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করবে আগামী সপ্তাহে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা রাজনৈতিক: পার্থ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার

যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় ৪ শুটার ভাড়া, দাবি ডিবির

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে ইসি