বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নের মুখে গ্রাম আদালদ

ডেস্ক রিপোর্ট (আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া.কম) : বাংলাদেশে ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ সহায়তায় গ্রাম আদালত প্রকল্প সফল বলে দাবি করা হলেও, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদের কথায়, বিচারের যোগ্যতা নেই এমন লোকের হাতে বিচার তুলে দেয়ার এ প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়৷

মাগুরার পবিত্র বালার একমাত্র সন্তান নিখিল মানসিক প্রতিবন্ধী৷ ৬৫ বছর বয়স্ক পবিত্র বালার নিজের মাসিক আয় এক হাজার টাকা৷ এছাড়া তাঁর প্রতিবন্ধী পুত্রও মাছ ধরে কিছু আয় করে৷ এভাবেই চলে তাদের সংসার৷ কিন্তু একদিন এক প্রতিবেশী তাদের মাছ ধরার জাল, বাই-সাইকেল এবং রিকশাভ্যান চুরি করে নেয়ায় তারা বিপদে পড়েন৷ তাদের আয়-রেজগার সব বন্ধ হয়ে যায়৷

এরপর পবিত্র বালা গ্রাম আদালতে বিচার চান৷ বিচারে তিনি ১৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পান৷ বলা বাহুল্য, এই ক্ষতিপূরণ পেয়ে তিনি বেজায় খুশি৷ ইউএনডিপি-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় গ্রাম আদালতের বিচারের এই ঘটনা৷ পবিত্র বালা বিচার পেয়েছেন অভিযোগ করার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে৷

বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ এবং বিধিমালা পাশ হলেও, ২০০৯ সাল থেকে সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেন৷ ২০১৫ সালে গ্রাম আদালতের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়৷ এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ২০১৯ সালে৷

ইউএনডিপি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এই গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে৷ গ্রাম আদালত চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আদালতগুলোয় ৮৫ হাজার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে শতকরা ৭৮ ভাগ অভিযোগ ২৮ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, এ সমস্ত অভিযোগে নারীর অংশগ্রহণ শতকরা ৩৫ ভাগ৷ আর তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে৷

গ্রাম আদালতের সুবিধার মধ্যে রয়েছেন দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ৷ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নতুন ১ হাজার ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কাজ করবে৷ এই সব ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস৷ এরসঙ্গে প্রথম ধাপের ৩৫১টি ইউনিয়নের ৭০ লাখ মানুষও গ্রাম আদালতের আওতায় থাকছেন৷

গ্রাম আদালতের প্রধান হলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান৷ তাঁর নেতৃত্বেই পাঁচ সদস্যের একটি আদালত অভিযোগের বিচার করে৷ ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়া দু’জন করে সদস্য থাকেন দুই পক্ষ (বাদি ও বিবাদি) থেকে৷ গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে৷ এই আদালতে ফৌজদারি মামলায় চার টাকা এবং দেওয়ানি মামলায় দু’টাকা ফি৷

বাংলাদেশের সাধারণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে যেখানে গড়ে পাঁচ বছর সময় লাগে, সেখানে গ্রাম আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে মাত্র ২৮ দিন৷ তবে গ্রাম আদালত ছোট-খাট অবপরাধ, চুরি, বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে৷

তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ গ্রাম আদালতকে আদালত বলতে নারাজ৷ তিনি বলেন, ‘‘এটি একটি শালিস মিমাংসার প্রকল্প৷” তিনি গ্রাম আদলতের বিরোধিতা করে বলেন, ‘‘বিচার বিভাগের বাইরে স্থানীয় সরকার আলাদা কোনো আদালত সৃষ্টি করতে পারে না৷ তাই যারা এটা করছেন, তারা না বুঝে করছেন৷”

তিনি দাবি করেন, ‘‘বিচারের জন্য প্রশিক্ষিত নয়, এমন লোকদের হাতে কোনো বিচার ছাড়া যায় না৷ আর ইউপি চেয়ারম্যানরা তো ভবিষ্যতে দলীয়ভাবে নির্বাচিত হবেন৷ দলীয় ব্যক্তি কীভাবে বিচার করেন?”

ড. তোফায়েল আহমেদের কথায়, ‘‘বিচার প্রশাসনকে উপজেলা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে৷ উপজেলা আদালতের অধীনে গ্রাম আদালত স্থাপন করতে হবে৷ তাহলে মানুষ এর সুফল পাবে৷” সূত্র : ডয়চে ভেলে0,,17670884_303,00

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে