বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিএসসিতে নারী লাঞ্ছনার মামলা চালাবে না পুলিশ

news-image

বাংলা নববর্ষ পালনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় দায়ের মামলায় কোনো আসামিকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।
 
ফলে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক দীপক কুমার দাস ঢাকা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এতে বলা হয়েছে, বর্ষবরণে যৌন হয়রানির ঘটনা গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত ৮ জন নারী লাঞ্ছনাকারীকে গ্রেপ্তার করতে না পারা, ঘটনায় জড়িত কোনো আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়া এবং তদন্তের সীমা নির্দিষ্ট হওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মামলার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে প্রচ- ভিড়ের মধ্যে ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী কতিপয় নারীর শাড়ি ধরে টান দেয়। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মামলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে তাহারা মামলার বিস্তারিত বিষয় শুনে মামলাটি অহেতুক মুলতবি না রেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগের দিন ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের উৎসবের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। তারা বেশ কয়েকজনকে বিবস্ত্র করে উল্লাস করতে থাকে।

এ সময় তাতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন। সে সময় চার নিপীড়ককে ধরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটন নন্দী বলেন, ‘এ দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না। আমি আমার পাঞ্জাবি খুলে এক নারীকে দিয়েছিলাম। আরেকটি মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। ওই যুবকেরা ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা পুলিশ সদস্য ও প্রক্টরকে ঘটনা জানালেও তারা কেউ যথাসময়ে আসেননি। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা পরে প্রক্টরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন তিনি কম্পিউটারে গেমস খেলছেন।’

পরে ওই ঘটনায় পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত আটজনের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য গত ১৭ মে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। শাহবাগ থানার এক এসআইকে প্রত্যাহারও করা হয়।

ওই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। রুলে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
 
তবে এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল বলে সে সময়ে অভিযোগ ওঠে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাওসহ বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে। এতেও তারা পুলিশের ব্যাপক পিটুনির মুখে পড়ে।

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে