সীমান্তের ওপার থেকে টাকা, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক : দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনজীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দাবি, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীরা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থের জোগান দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কলকারখানায় পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা যেন কোনো পক্ষ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে জনগণের সতর্কতা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের আগে বহু শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছিলেন। বিএনপি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, জুলাই শহীদদের স্মরণে সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসংগতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক পক্ষ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন সেই পক্ষগুলো একত্র হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, অতীতেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি মহল ষড়যন্ত্র করেছিল। তাঁর মতে, বর্তমানেও দেশের অগ্রগতি থামানোর অপচেষ্টা চলছে।
দেশ গঠনে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে।
জনসভায় উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু ও সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালু, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ১৫০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।










