,

তথ্য সরবরাহে কঠোর নির্দেশনা বেবিচকের

news-image

গোলাম সাত্তার রনি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবকৃত নথি ও তথ্যাদি পাঠাতে বারবার বিলম্ব করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলো। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বেবিচক কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় রেকর্ড না পাঠানো প্রতিষ্ঠানটির জন্য শুধু বিব্রতকরই নয়, অস্বচ্ছতারও ইঙ্গিতবাহী। তাই সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে বেবিচক সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছেÑ দুদকের চাহিত তথ্য পাঠাতে কোনোরূপ অবহেলা বা দেরি আর বরদাশত করা হবে না।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুদকের তদন্তসংক্রান্ত তথ্যসামগ্রী সময়মতো সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক। ৩০ নভেম্বর প্রশাসন ইউনিট-২ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে বলা হয়, দুদকের পাঠানো চিঠি ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সময়মতো না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন বিপাকে পড়ছে। এর ফলে দুদকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বেবিচকের ভাবমূর্তি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন বেবিচকের পরিচালক (প্রশাসন) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। পত্রে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসন শাখা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। দুদকের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছে সময়মতো নথি প্রেরণ করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়। এটি বেবিচকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পত্রে আরও বলা হয়, দুদকের চাহিত তথ্য স্পর্শকাতর হওয়ায় তা অবিলম্বে সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখায় পাঠানো বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়সীমা উপেক্ষা করলে দেরির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা দপ্তরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেবিচকের বিভিন্ন শাখা, প্রকল্প, দপ্তর ও দেশের সব বিমানবন্দর ব্যবস্থাপককে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যাতে কেউ অজ্ঞতার অজুহাত দেখাতে না পারেন। বেবিচকের অভ্যন্তরীণ একাধিক

সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় শাখা বা বিমানবন্দরগুলোয় নথিপত্র ঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে না অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকে। কোথাও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় নেওয়া হয় উচ্চপর্যায়ের অনুমতির অপেক্ষায়। এসব কারণে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে নথি পৌঁছায় দেরিতে অথবা অসম্পূর্ণভাবে।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরঞ্জাম ক্রয়, টেন্ডার, রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়োগ এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতে অনিয়মের অভিযোগে বেবিচকের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথি সময়মতো না পেলে দুদকের কার্যক্রম বিলম্বিত হয় এবং তদন্তের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অনেকে তথ্য সরবরাহে দেরিকে ইচ্ছাকৃত গোপন প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখেন।

সর্বশেষ জারি করা আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, সময়মতো তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বেবিচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার জন্য এ ধরনের কঠোর নির্দেশনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদকের তলবে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পাঠানো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করার অপরিহার্য উপাদান। সময়ক্ষেপণ শুধু তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নাÑ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল খাত পরিচালনাকারী বেবিচকের সামগ্রিক সুনামকেও ক্ষুণ্ন করতে পারে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনতাই

নবীনগরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

নবীনগরে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতিমূলক সভা

নবীনগরে ৩০ বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ২৫ পরিবার

হামের উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু

অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরার ৪ দিনের রিমান্ড

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ

বৃহস্পতিবার-শুক্রবার সারাদেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ