,

ষড়যন্ত্রে থামবে না অগ্রযাত্রা

news-image

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবই। জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত দেশ গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি; তবে বাংলাদেশে ইনশা আল্লাহ দুর্ভিক্ষ হবে না। তবে তার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

গতকাল শুক্রবার যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বেলা আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী মহাসমাবেশে আসেন। স্লোগানে স্লোগানে এবং মুহুর্মুহু হাততালিতে তাকে সমাবেশে স্বাগত জানানো হয়। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে মহাসমাবেশের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ নেতারা জানান, মহাসমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি লোক সমবেত হয়েছেন। অনুষ্ঠান সফল করতে এক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুবলীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তীতে যুবলীগ নেতাদের অভিনন্দন জানান।

তাদের মুখে ছাই পড়েছে : শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। অনেকে বলেছিলেন শ্রীলঙ্কা হবে, এটা হবে, সেটা হবে। তাদের মুখে ছাই পড়েছে। সেটা হয়নি। সেটা হবেও না। কিন্তু আমাদের কাজ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। উন্নত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে কেউ এখন অবহেলার চোখে দেখে না। প্রত্যেকে বলে এত কিছুর পরেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

ঘরের টাকা ঘরেই আছে

রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে রিজার্ভের টাকা ব্যবহার হচ্ছে। টাকা বাইরে যায়নি। ঘরের টাকা ঘরেই আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সরকারে ছিল বিএনপি। তখন রিজার্ভ ছিল ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত নিয়েছিলাম। রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে কভিড টিকা কিনেছি, বিনিয়োগ করেছি, বিমান কিনেছি, পায়রাবন্দর নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। এভাবে রিজার্ভ থেকে খরচ হয়েছে। ঘরের টাকা ঘরে থাকছে। দেশের জনগণের উন্নয়নে এই টাকা ব্যবহার করছি।’

রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানকে লোন দিয়েছি। বিমান ২ শতাংশ সুদে সেই টাকা ফেরত দিচ্ছে। পায়রা নদী ড্রেজিং নিজেদের টাকায় করেছি। নইলে এই টাকা বিদেশি ব্যাংক থেকে নিতে হতো। সেখানে আমাদের সুদসহ ডলার ফেরত দিতে হতো। আজ আমরা নিজেদের ব্যাংক থেকে নিচ্ছি। নিজেদের রিজার্ভ থেকে ব্যবহার করছি। সুদের টাকাও আমাদের ঘরে থাকছে। অপচয় হচ্ছে না। আমরা টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি কখনো কল্পনাও করতে পারেনি বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে। আজ অনলাইনে কেনাকাটা হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ^ব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। পরে সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতা মানি লন্ডারিং, লুটপাট, দুর্নীতির কথা বলেন। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। মানি লন্ডারিং মামলায় তিনি সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত। অস্ত্র মামলার আসামি। তাদের মুখে সমালোচনা মানায় না।’

জিয়া, এরশাদ, খালেদা সবই তো এক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবই তো একই ইতিহাস। বাংলাদেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। হাজার হাজার সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদেরও খুন করা হয়েছে। খুনিদের লালন-পালন করা ওদের চরিত্র।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে আমাদের সমালোচনা করছেন, উন্নয়ন নাকি চোখে দেখতে পান না। চোখ থাকতে যদি কেউ অন্ধ হয় তাকে তো দেখানো যায় না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। সবই তো আওয়ামী লীগের দেওয়া।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেয়ে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া হচ্ছেন বিএনপির নেত্রী। তার পরিবর্তে যাকে দিয়েছে, সে তো আরও একধাপ ওপরে। তারেক জিয়ার সাজা হয়েছে মানি লন্ডারিং কেসে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। যাদের নেতা খুন, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র চোরাকারবারে জড়িত তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা শোভা পায় না।’

নিজের জমি চাষ করতে হবে

যুবলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। যুবকদের দেশ গড়ায় মনোযোগী হতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করতে হবে। সে জন্য যুবসমাজকে অনুরোধ করব, আমাদের পরনির্ভরশীল থাকলে হবে না। আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আহ্বান করেছিলাম কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার জন্য। যুবলীগসহ সব সংগঠন ধান কেটে দিয়েছে। বৃক্ষরোপণের আহ্বান করেছি, যুবলীগ লাখ লাখ বৃক্ষরোপণ করেছে। মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে বলব, যারা এখানে আছেন বা বাইরে আছেন, নিজের গ্রামে যান। গিয়ে কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে, সেটা দেখতে হবে। নিজের জমি চাষ করতে হবে। অন্যের জমিও যেন উৎপাদনশীল হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক থেকে যুবসমাজ যেন দূরে থাকে। কোনোমতেই যেন কেউ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়। তার জন্য যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অঙ্গীকার করতে হবে। সেভাবে কাজ করতে হবে। যুবসমাজের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদন বৃদ্ধি মানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশন, প্রবাসী ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক সব জায়গায় লোন আছে। তারা সেখান থেকে লোন নিতে পারে। নিজেরা কাজ করতে পারে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কাজ করে তারা দেশের উন্নতি করতে পারে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না