,

‘বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের বনসাই’

news-image

সামীউর রহমান
বছর ঘুরে দিনটা চলেই আসে। মোবাইলের স্ক্রিনে নভেম্বর ১০ ভেসে ওঠা মানেই ভেসে আসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, সাদা পোষাকে নাঈমুর রহমান দূর্জয় আর সৌরভ গাঙ্গুলির টস করা। ২২ বছর আগে, এই তারিখেই বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত আঙ্গিনায়। একে একে চলে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়, এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলেছে ১৩৪টি টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু জয় মাত্র ১৬ ম্যাচে। তারও আবার অর্ধেকই এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল অভিষেক টেস্টের ক্রিকেটারদের কয়েকজনের সঙ্গে। কেউ জানিয়েছেন সন্তুষ্টির কথা, কেউ বা হতাশার। তবে ঘুরে ফিরে সবারই হতাশার জায়গাটা ব্যাটিং।

অভিষেক টেস্টের দলে থাকা ক্রিকেটারদের ২০১৯ সালে ইডেনে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন পশ্চিমবাংলা মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচের সময়। সেবার ইন্দোরে সিরিজের প্রথম ম্যাচ বড় ব্যবধানে হেরে আসার পর কলকাতায় গোলাপি বলে উপমহাদেশে প্রথমবারের মত দিনরাতের টেস্ট আর সংবর্ধনার রোশনাইতে চাপা পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের মুমূর্ষু অবস্থাটা। যতদিন গড়াচ্ছে, ততই যেন আরও প্রকট হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা, যার প্রমাণ ভারতের একটি রাজ্যদলের বিপক্ষেও টেস্ট খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বিসিবি একাদশের বেহাল দশা। অথচ প্রথম টেস্ট ইনিংসেই যে দলটা ৪০০ রান করেছিল, একজন দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই শতরান করেছিলেন তাদের তো দুই দশকে আরও এগিয়েই যাবার কথা!

অভিষেক টেস্টে খেলা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট তাই আক্ষেপ নিয়েই বললেন, ‘এক ধরণের গাছ আছে না যে গুলো বাড়ে না, কি যেন বলে ওগুলোকে…ও হ্যাঁ বনসাই। বাংলাদেশ হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের বনসাই। ২২ বছরে আমরা হয়তো ভাল কিছু খেলোয়াড় পেয়েছি, তাদের ব্যক্তিগত নৈপুন্যে আমরা কিছু ম্যাচে জিতেছি বা ভালও করেছি। কিন্তু এই ২২ বছরে অবকাঠামো, সংস্কৃতি যতটা এগোনো দরকার ছিল তার কাছাকাছিও আমরা যেতে পারিনি।’

দিনটা আলাদা করে মনে রাখেন কি না এমন প্রশ্নে জবাব দিলেন, ‘আপনি বললেন দেখে মনে পড়লো। আলাদা করে পালন করা, জন্মদিনের মত এসব কিছু হয় না। ব্যস্ত মানুষের আবার জন্মদিন কিসের’, বলে হয়তো একটি অভিমানের কথাই শোনালেন পাইলট।

বাংলাদেশ অভিষেক টেস্ট খেলেছিল ভারতের বিপক্ষে। ডিসেম্বরে আবারও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট। ২২ বছরে ব্যবধান কতটা ঘুচল? প্রশ্নটা করা হয়েছিল হাসিবুল হোসেন শান্তকে। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার ছিলেন অভিষেক টেস্টের দলে। জবাব এল, ‘আমার তো মনে হয় একেবারে খারাপ করেনি, তবে ব্যাটিংটা এখনো দুশ্চিন্তার জায়গা। ভারত যে দল পাঠাচ্ছে, তাতেই বোঝা যাচ্ছে ওরা আমাদের হালকাভাবে নিচ্ছে না। আমাদের পেস বোলিং এখন অনেক ভাল। আগে তো আমরা দুই জনের জায়গায় তিনজন পেসার পেতাম না, এখন কেউ একজন চোটগ্রস্থ হলেও ব্যাকআপ আছে।’

প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করেও পরের ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড, সৌরভ গাঙ্গুলিদের আড়াল করে ব্যাটে বলে নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন সুনীল যোশি। দুই দশকেরও বেশি সময়েও সেই পুরনো অভ্যাসটা যায়নি বাংলাদেশের। এখনও ‘সিলেবাসের বাইরের’ কেউ গড়ে দেন ব্যবধান, দুটো ইনিংসই একই সমান ভাল হয় খুব কম সময়েই।

অভিষেক টেস্টের বিকাশ রঞ্জন দাস ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুত বাদে বাকি সবাই ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন। দেশে বিদেশে নানান ভূমিকায় ক্রিকেটের সঙ্গেই জড়িয়ে। অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দূর্জয় এবং আকরাম খান দুজনেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক। তারপরও কেন বাংলাদেশের ক্রিকেট টেস্ট পরিবারের বনসাই থেকে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর তারাই ভাল দিতে পারবেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না