,

ম্যারাডোনাকে খুঁজবে এই বিশ্বকাপও

news-image

তানভীর এলাহী : ডিয়েগো ম্যারাডোনা নামটার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল গত কয়েক দশকের বিশ্বকাপ । সেই ১৯৭৮ সাল থেকে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের সময় ১৮ বছরের তরুণকে বেশি তরুণ মনে হয়েছিল কোচ সিজার লুইস মেনোত্তির কাছে। তাই তাকে খেলাননি। নইলে প্রথম বিশ্বকাপ জয়টা সে বছরই হয়ে যায়।

১৯৮২’র বিশ্বকাপ শুরুর আগে ম্যারাডোনা পরিণত হন আর্জেন্টিনার আইকনে। সে সময় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা দলগুলোর মন্ত্রই ছিল এমনÑ ম্যারাডোনাকে থামাও, থেমে যাবে দল। ২৪ দলের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডেই থামে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা। ব্রাজিলের বিপক্ষে লাল কার্ড পেয়ে শেষ হয় ম্যারাডোনার ওই আসর।

২৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হয় ১৯৮৬-তেও। তবে সেবার দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিল নকআউট পর্ব। ও সময়টাতে আর্জেন্টিনা যখন অর্থনৈতিকভাবে ভারাক্রান্ত, সামরিক অভ্যুত্থানে দেশের পরিস্থিতি বেসামাল, তখন আন্ডারডগ দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে পুরো দেশকে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখান। ১৯৯০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। আলোর পাশাপাশি অন্ধকারও দেখেছেন এই কিংবদন্তি। আর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ দুটি ম্যাচ খেলার পর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এরপরও নানাভাবে বিশ্বকাপের সময় ম্যারাডোনাকে দেখা যেত মাঠে। মাদকের সংশ্লিষ্টতায় জাপান ভিসা দেয়নি বলে ২০০২-এর বিশ্বকাপ দেখতে পারেননি মাঠে বসে। জার্মানির সঙ্গে পুরনো লড়াই আর্জেন্টিনার। সেই জার্মানির সঙ্গে ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল আলবিসেলেস্তেদের, বার্লিনে। কিন্তু ওই মাদকের সংশ্লিষ্টতায় ভিসা দেওয়া হলো না ম্যারাডোনাকে।

২০১০ বিশ্বকাপে আবার মাঠে ডিয়েগো ম্যারাডোনা। উত্তরসূরি মেসিদের কোচ হয়ে। দল ভালো করতে পারেনি। সেই মেসিই ২০১৪ বিশ্বকাপে ১৯৯০-এ তার মতোই ব্যর্থ হলো দলকে ফাইনাল জেতাতে। মেসির হাতে তবুও গোল্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড দেখে ম্যারাডোনা বললেন, ‘মেসিকে পারলে আমি স্বর্গ এনে দিই। কিন্তু গোল্ডেন বল! শুধু বিপণনের কথা ভেবে একজনকে এরকম পুরস্কার দেওয়া যায় না।’

সবশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে মাঠে বসে দেখেছেন প্রিয় দলের খেলা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গোলের পর দুই হাত দুদিকে মেলে ওপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদযাপন করেছিলেন। সেই ম্যাচের পর কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ম্যারাডোনা। এ সময় সংবাদ হয়, ম্যাচের পর ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে ইন্সটাগ্রামে ম্যারাডোনা জানিয়েছিলেন তিনি সুস্থ আছেন, হাসপাতালেও যাননি।

নিজের ৬০তম জন্মদিনের আগে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ম্যারাডোনার কাছে প্রশ্ন রেখেছিল, ‘৬০তম জন্মদিনে কোন উপহার চান?’ ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘ইংল্যান্ডের জালে আরেকটি গোল করার স্বপ্ন দেখি। এবার ডান হাত দিয়ে।’ আজ হয়তো ম্যারাডোনা ভক্তরা সেটি মনে করে বলবেন আপনি ফিরে আসুন। নিজের ইচ্ছেটা পূরণ করুন। মেসির কথাতেই বলতে হচ্ছে- আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও তিনি কোথাও যাচ্ছেন না, কারণ ডিয়েগো চিরন্তন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না