বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কার শাসনভার এখন কার হাতে?

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে জীবন বাঁচাতে মালদ্বীপে পালিয়ে গেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। এর আগে কয়েকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। শেষমেষ গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে একটি বেসামরিক বিমানে দেশ ছাড়েন গোতাবায়া। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব এখন কে সামলাচ্ছেন বা সামলাতে যাচ্ছেন?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। তারা বলছে, প্রেসিডেন্ট মালদ্বীপে পাড়ি জমানোর ফলে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতা কঠামোয় উল্লেখযোগ্য শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে গোতাবায়া ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

তবে শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ক্ষমতা গ্রহণ করা উচিত। কারণ শ্রীলঙ্কান পার্লামেন্টে তিনি প্রেসিডেন্টের ডেপুটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন।

কিন্তু রাজাপাকসে পরিবারের ঘনিষ্ঠ রণিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কায় ততটা জনপ্রিয় নন। এছাড়া রণিল জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও কবে করবেন সেটি জানাননি।

মূল বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন জমা দিতে চান। তবে তার যথেষ্ট জনসমর্থন নেই।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ারদেনাও তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। যদিও মানুষ রাজাপাকসের সহযোগী স্পিকারকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিবে কী না; সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।

এই পরিস্থিতিতে সামনে চলে আসতে পারেন শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দেনা। তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে তারই শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা সজিথ প্রেমাদাসা গত সোমবার বিবিসিকে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে যেতে চেষ্টা করবেন।

এর আগে বিমানব্ন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাধার মুখে আকাশপথে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন গোতাবায়া। বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তারা গোতাবায়ার পাসপোর্টে সিল মারতে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার এই দ্বীপ দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য নৌবাহিনীর টহল নৌযান ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

দেশটিতে চলমান অস্থিরতা এবং এর জেরে সাধারণ জনগণের ক্ষুব্ধ আন্দোলনের দাবানল আছড়ে পড়েছে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের বাসভবনে। গত শনিবার দেশটির শীর্ষ এই দুই নির্বাহীর বাসভবনের দখল নেন বিক্ষোভকারীরা, এখনও তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে বুধবার পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পথ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছেন, পদত্যাগের আগে তারা দখলে নেওয়া বাসভবন ছাড়বেন না।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার কোনো আইনেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের বিধান নেই। তবে পদত্যাগের পর গ্রেপ্তার হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে