,

দিনেদুপুরে শতাধিক লোক নিয়ে পত্রিকা অফিসে হামলা

news-image

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় স্থানীয় দৈনিক ‘সময়ের নারায়ণগঞ্জ’ এর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদকর্মীদের মারধর, গালাগালি, সম্পাদককে গুলি করে হত্যার হুমকি এবং পত্রিকার কার্যালয় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেলা ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে চাষাঢ়ার প্রেসিডেন্ট রোডে অবস্থিত সিরাজ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় পত্রিকার কার্যালয়ে প্রবেশ করে একদল সন্ত্রাসী। প্রায় ১৫ মিনিট কার্যালয়ে অবস্থান করে তারা। এই সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে তারা। এছাড়া অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও ডিভিআর ডিভাইস নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। একটি ভিডিওচিত্র থেকে সন্ত্রাসী দলের কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তারা সকলেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

সিরাজ ম্যানশনের প্রহরী হাফিজউদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ করে শতাধিক লোকজন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে চায়। আমি তখন বাধা দিতে গেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সবাই ওপরে ওঠে। আমি একা সকলের সঙ্গে পারছিলাম না।’

ঘটনার সময় অফিসকক্ষে থাকা সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফ হোসাইন কনক বলেন, ‘বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে অফিসের নিচে শতাধিক মোটরসাইকেল অবস্থান করে। পরে মোটরসাইকেল থেকে শতাধিক লোকজন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে। অফিসে ঢুকেই আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।

“তারা ১১ ফেব্রুয়ারি সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার লিড নিউজ ‘যা ছিল খসড়া চার্জশীটে’ সংবাদটি কেনো প্রকাশ হয়েছে তার কৈফিয়ত জানতে চান। তারা বলতে থাকেন, আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে নিউজ করস। কালকের মধ্যে পত্রিকায় এর জন্য ক্ষমা না চাইলে পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দিব ও সম্পাদককে গুলি করে মেরে ফেলবো।”

কনক আরও বলেন, প্রায় ১৫ মিনিটের মতো সন্ত্রাসী বাহিনী পত্রিকা অফিসে ছিল। পুরোটা সময় তারা হুমকি-ধমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। যাবার সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয় এবং সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ডিভাইস খুলে নিয়ে যায়। এছাড়া একটি পিসির হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে গেছে। ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে।

সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ভিডিওচিত্র থেকে এ হামলার ঘটনায় নাসির, আক্তার নূর, সুমন, সানি, ইসমাইল, আন্নান, কাজল, রুবেল, সিনাফি, রবিন, মনির, লক্ষণ, কৃষ্ণা ও রাতুলকে চিহ্নিত করা গেছে। তাদের মধ্যে নাসির ও আক্তার নূর এর আগে একাধিকবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিল। তারা আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।

সময়ের নারায়ণগঞ্জের প্রকাশক ও সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘সম্প্রতি ত্বকী হত্যা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। ১১ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের সেই প্রকাশিত খসড়া চার্জশিট নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। মূলত সেই খসড়া চার্জশিট র‍্যাব প্রকাশ করে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহ করে। সেটাই হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে আমাদের নিজেদের মনগড়া বক্তব্য নাই। কিন্তু তারা যেভাবে অফিসে হানা দিয়েছে সেটা ন্যাক্কারজনক। তারা অফিসের সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন ও একটি পিসির হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে। ভাঙচুর করেছে ক্যামেরা।’

হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে অবগত বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ, অফিসের লোকজনদের সঙ্গে থাকা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ জাতীয় আরও খবর

৩৫ বছর পর আজ সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল