,

৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রাম জেলায় প্রাথমিকের শতকরা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি করোনাকালীন সময়ে। এতে এই শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে পড়ালেখায়। স্মার্ট ফোন না থাকাতে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে চার লাখ এ সময় শিক্ষা সুবিধা পায়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিজস্ব জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। উপজেলার একটু প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীর অনলাইনে অংশ নেওয়ার হার আরও কম। কোথাও কোথাও ৭–৮ শতাংশ।

নগরের শুলকবহর ডেকোরেশন গলির বস্তিতে গিয়ে দেখা শান্তার সঙ্গে। দরিদ্র হলেও পড়াশোনায় ব্যাপক আগ্রহ তার। পড়ছে নগরীর পাঁচলাইশ আহমেদ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার ঘরে মোবাইল বলতে আছে দুটি পুরোনো মডেলের ফোন। এসব দিয়ে অনলাইনে ক্লাসের সুযোগ নেই। তাই দিন দিন পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে সে।

শান্তার মা আসমা আক্তার একজন গৃহকর্মী। করোনায় মেয়ের পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চাইলে আফসোস করে বলেন, দামি মোবাইল না থাকায় মেয়েকে অনলাইনে ক্লাস করতে দিতে পারিনি। দু-এক দিন তার এক বান্ধবীর বাসায় গিয়ে ক্লাস করেছিল। নিয়মিত ক্লাসের অভাবে সে এখন অনেক কিছু ভুলে গেছে।

এই চিত্র শুধু শান্তাদের ঘরেরই নয়। চট্টগ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছে গত দেড় বছর। বড় সমস্যা স্মার্ট ফোনের অভাব।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছর জুনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি সমীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে চট্টগ্রাম জেলায় প্রাথমিকের ৬ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ১২০ জনের স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা আছে। বাকি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী ছিল এর বাইরে। এখনকার হিসেবে, ৮–১০ হাজারের মতো শিক্ষার্থীর মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা বেড়েছে। অর্থাৎ প্রায় দুই লাখের মতো। সে হিসেবেও সাড়ে চার লাখ বা ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সুযোগের বাইরে ছিল।

নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ এ জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রিনা শওকত বলেন, আমাদের স্কুলে ১১৫৪ বাচ্চার মধ্যে অনলাইনে পেয়েছি ২০০–২৫০ জনকে।

কাতালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপন মল্লিক বলেন, এখানে ৪১০ জন শিশুর মধ্যে ক্লাসে থাকত দেড় শর মত। তবে যারা থাকতে পারেনি তাদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছি, মোবাইলে কল করে কাজ দিয়েছি। তারপরও অনেক গ্যাপ থাকবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জঙ্গল পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপেন বৈদ্য জানান, তার বিদ্যালয়ে ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইন পাঠদানে নিয়মিত পাওয়া গেছে মাত্র ৫–৬ জনকে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামের দাবি করেন, এতে গ্যাপ হবে না। কারণ তাদের সঙ্গে শিক্ষকেরা যুক্ত ছিলেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকেরা ওয়ার্কশিট পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এই কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, দেড় বছর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে না থাকায় অনেকেরই ড্রপ আউটের শঙ্কা আছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুগল মিট বা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩০ শতাংশের মতো। এটি নিয়ে এই ঘাটতি পূরণে একটি রিকভারি লেসন প্ল্যান তৈরি করছি। আশা করি ধীরে ধীরে এটা পূরণ করতে পারব।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান মনে করেন, এর একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। ২০৩০ সালে শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার উদ্যোগ এ কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিক্ষাবিদ ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মতে, ইন্টারনেটে ক্লাস কেবল সচ্ছলদেরই এগিয়ে দেবে। ওয়ার্কশিট দিয়ে যেটি করা হয়েছে তাতেও বাচ্চারা নামমাত্র লাভবান হবে। সব মিলিয়ে করোনা শিক্ষার বৈষম্যটাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিতর্কের জেরে সরানো হলো মেহজাবীন-পরীমণির ভুয়া ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক: জি এম কাদের

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল উন্নত প্রযুক্তির ১৮ রেলকোচ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

দুই মাস পর বড়পুকুরিয়া খনিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু

‘নুর হাসিনার পুত্র হলে, আসিফ-নাহিদরা নাতি’: আবু হানিফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য হ্রাসের আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর এক মাসের কারাদণ্ড

শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি